সফরকালে আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বৈঠকগুলোকে “উষ্ণ ও ফলপ্রসূ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। ওই বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ইসলামাবাদে একটি মোটর শোভাযাত্রার ছবি প্রকাশ করে জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানী ত্যাগ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার পাকিস্তানে পৌঁছাবে। ওই দলে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।
তেহরান সূত্রে জানানো হয়েছে, আব্বাস আরাঘচির ইসলামাবাদ সফরটি আঞ্চলিক তিন দেশের কূটনৈতিক সফরের অংশ ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার কোনো সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল না।
দিনভর বৈঠকের পর ইসলামাবাদ সফর শেষ করে আব্বাস আরাঘচির দ্রুত প্রস্থানের ঘটনায় কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের আগমনের প্রেক্ষাপটে সময়ের মিল নিয়ে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন পক্ষের কূটনৈতিক কার্যক্রম একই সময়সীমার মধ্যে ঘিরে ইসলামাবাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, সফর এবং প্রতিনিধিদলের আগমন একসঙ্গে ঘটেছে।