পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবলের ঐতিহ্য ও ক্রীড়া সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি এটিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীন পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় এবং অতীতের সেই ধারা অনুসরণ করবে না।
আবাহনী ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কাঠামো নতুনভাবে গড়ে তোলার মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ইভেন্টে ক্লাবটির পূর্বের অবস্থান ও সাফল্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় এবং ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সব ক্লাবের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই সময় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিকে তিনি ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ক্লাবগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়দের সুযোগ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়। এ কারণে সরকার দেশের সব ক্রীড়া ক্লাবকে টেকসই সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যক্তিত্ব।
সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই পরিদর্শন ও মতবিনিময় ক্রীড়া প্রশাসন ও ক্লাব পর্যায়ের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।