খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্রের প্রতিচ্ছবি। গত শনিবার সকালে ইরান অভিমুখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর তেহরান যে বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে, তার প্রভাব এখন ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে। রোববার (১ মার্চ) ইরানের সর্বশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জেরুজালেমের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি বেইত শেমেশ এলাকার একটি জনবহুল আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। হামলার আকস্মিকতায় ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা মানুষজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত ২০ জনেরও বেশি মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ ট্রমা সেন্টারগুলোতে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে মধ্য ইসরায়েলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
হামলার পরপরই বেইত শেমেশ এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলি জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ (MDA) দ্রুত ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’-এর একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল সেখানে কাজ করছে। আহতদের মধ্যে যাদের অবস্থা বেশি সংকটাপন্ন, তাদের দ্রুত সরিয়ে নিতে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
নিচে বেইত শেমেশ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় হামলার ক্ষয়ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্ত সারণি দেওয়া হলো:
| ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | নিহতের সংখ্যা | আহত ও চিকিৎসাধীন | বর্তমান উদ্ধার তৎপরতা |
| বেইত শেমেশ (জেরুজালেম পশ্চিম) | ০৮ জন | ২০+ জন | হেলিকপ্টার ও ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত। |
| মধ্য ইসরায়েল | তথ্য যাচাইাধীন | ১১ জন | জরুরি সেবা সংস্থা ও পুলিশ সতর্ক অবস্থায়। |
| আবাসিক পরিকাঠামো | ১টি বহুতল ভবন | – | ভবনটি আংশিক ধসে পড়েছে। |
| নিরাপত্তা অবস্থা | উচ্চ ঝুঁকি | – | রেড অ্যালার্ট ও কারফিউ সদৃশ সতর্কতা। |
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই হামলাটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং এর মাধ্যমে তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও নির্ভুলতার জানান দিয়েছে। বেইত শেমেশ শহরটি জেরুজালেমের খুব কাছে হওয়ায় এখানে আঘাত হানা মানে ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্রে সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করা। এই ঘটনার পর পুরো ইসরায়েল জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান এই হামলাকে ‘প্রতিশোধমূলক’ এবং ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের সর্বোচ্চ নেতার ওপর হামলার পরিণাম হিসেবে ইসরায়েলকে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা এই প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বেইত শেমেশে এই প্রাণহানির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল। আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলো এই ভয়াবহ সংঘাত থামানোর চেষ্টা করলেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।