খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি একটি হামলার সময় আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাতের সময় তিনি আঘাত পেয়েছিলেন। তবে তার নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর ছেলে এবং সরকারের উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানিয়েছেন, “আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। আহত হওয়ার পরেও তার জীবন বিপদে নেই।” ইউসুফ পেজেশকিয়ান এই তথ্যটি নিজে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে যদিও মোজতবা খামেনির আঘাতের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তার আঘাতের ধরন বা শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মোজতবা খামেনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এর ছেলে। গত রোববার তিনি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের ৮৮ জন ধর্মীয় বিশিষ্ট ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ভোট দিয়েছেন।
এর আগে তিনি কখনও কোনও সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণও করেননি। তবু তার রাজনৈতিক প্রভাব ছিল যথেষ্ট। তিনি বিশেষভাবে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ হামলায় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তেহরানে নিজ বাসভবনে এই হামলায় তার মেয়ে, নাতি, জামাই এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর থেকেই মোজতবা খামেনি সম্ভাব্য পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
মোজতবা খামেনির সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পুরো নাম | মোজতবা হোসেইনি খামেনি |
| বয়স | ৫৬ বছর |
| সম্পর্ক | আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে |
| রাজনৈতিক ভূমিকা | কোন সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ |
| নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা | অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস দ্বারা সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত |
| বর্তমান অবস্থা | আহত হলেও নিরাপদ ও সুস্থ |
মোজতবা খামেনি একজন অদূর ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে দেশের রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখবেন। তার নেতৃত্বে ইরানের অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক নীতি কতটা পরিবর্তিত হবে, তা এখন বিশ্ব মহলে নজর কাড়ছে।