খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অন্তত ২০ জন শীর্ষ কমান্ডার এবং বেশ কয়েকজন পরমাণুবিজ্ঞানীদের হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে মোসাদ।
সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাদের পরিকল্পনার বিষয়টি জানান ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক উপপ্রধান রামে ইগ্রা।
রামে ইগ্রা বলেন, মোবাইল ফোন প্রযুক্তি এখন যে কারও গোপনীয়তা হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। যদি আপনার হাতে একটি মোবাইল থাকে, তাহলে আপনার কিছুই গোপন নেই। আর যদি আপনি হন রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর কমান্ডার, তাহলে তো কথাই নেই। আপনি কোথায় থাকেন, কোন ফ্ল্যাটে, কোন তলায়—সবই জানা সম্ভব।
তিনি জানান, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কমান্ডারদের অবস্থান শনাক্ত করে ইসরায়েল। এরপর অত্যাধুনিক গাইডিং সিস্টেমসহ মিসাইল দিয়ে তাদের বাসার নির্দিষ্ট ঘরে হামলা চালানো হয়।
তার কথায়, ইরানি সেনা কর্মকর্তারা যে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন, সেই ঘরেই মিসাইল গিয়ে আঘাত হানে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। প্রযুক্তি এখন এ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
রামে ইগ্রা আরও বলেন, এতটা নিখুঁতভাবে হামলা সম্ভব হয়েছে কারণ ইসরায়েল বিগত দুই বছর ধরে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিল। যার মাধ্যমে শুধু ভবনের অবস্থান নয়, বরং নির্দিষ্ট ঘর পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব।
তবে এসব হত্যাকাণ্ড ইরানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করবে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এসব অপারেশন কৌশলগত মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামো তাতে ভেঙে পড়ে না।
সাক্ষাৎকারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোসাদের সাবেক এই কর্মকর্তা। তার মতে, যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সফল হয়, তবে এর দায় বর্তাবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বর্তমান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। কারণ, তাদের সিদ্ধান্তেই ইরান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়।
খবরওয়ালা/এমইউ