খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ইরানের মহাকাশ অভিযাত্রায় যুক্ত হলো আরও তিনটি স্থানীয়ভাবে নির্মিত রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তেহরানের সময় বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে রাশিয়ার সয়ুজ স্যাটেলাইটবাহী রকেটের মাধ্যমে জাফর–২, পায়া ও কাউসার–১.৫ কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। রাশিয়ার ভস্তোচনি কসমোড্রোম থেকে পরিচালিত এই উৎক্ষেপণে একাধিক আন্তর্জাতিক পেলোড ছিল, যার মধ্যে ইরানের তিনটি স্যাটেলাইট বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ নিয়ে সাতবারের মতো রাশিয়ার রকেট ব্যবহার করল তেহরান, যা দুই দেশের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ধারাকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি উৎক্ষেপণের আগে বলেন, এ সফলতা ইরানের বেসামরিক মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রগতিতে অন্যতম মাইলফলক। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি জানান, স্যাটেলাইটগুলোর নকশা থেকে নির্মাণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই সম্পন্ন হয়েছে ইরানে; সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং জ্ঞানভিত্তিক বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগেই তারা এই সক্ষমতা অর্জন করেছে। শুধু উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াটি অংশীদার হিসেবে রাশিয়ার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে।
এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ইরানের প্রযুক্তি বিকাশের আরেকটি ধাপ উন্মোচিত হলো। বৈজ্ঞানিক মহলের মতে, এই স্যাটেলাইটগুলো কক্ষপথে স্থিতিশীলভাবে কাজ শুরু করলে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সীমানা পর্যবেক্ষণ, কৃষি উন্নয়ন, সাইবার প্রযুক্তি এবং স্মার্ট তথ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বিশেষত আইওটি সক্ষম কাউসার–১.৫ স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।
| স্যাটেলাইট | নির্মাতা/উন্নয়ন | ওজন | কাজের ক্ষেত্র | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|---|
| জাফর–২ | ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি | আনুমানিক মধ্যমানের | প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানচিত্রায়ন | উন্নত রিমোট সেন্সিং ক্ষমতা |
| কাউসার–১.৫ | উন্নত সংস্করণ (কাউসার ও হুদহুদ-এর পরবর্তী প্রজন্ম) | হালকা | আইওটি ভিত্তিক তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় | তাৎক্ষণিক স্মার্ট ডাটা ট্রান্সমিশন সক্ষম |
| পায়া (তোলু–৩) | ইরানি মহাকাশ সংস্থা | প্রায় ১৫০ কেজি | পৃথিবী পর্যবেক্ষণ | ইরানের সবচেয়ে ভারি সিভিল স্যাটেলাইট |
ইরান ২০০৯ সালে প্রথম ‘ওমিদ’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ অঙ্গনে প্রবেশ করে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত বাধা সত্ত্বেও দেশটি ধীরে ধীরে নিজেদের স্যাটেলাইট ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বিস্তৃত করছে। সামরিকের বাইরে বেসামরিক প্রযুক্তি, কৃষি, জলবায়ু গবেষণা, দুর্যোগ সতর্কীকরণ এবং যোগাযোগ উন্নয়নে এই ধারাবাহিকতার প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মিশন সফল হলে ইরান দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার মহাকাশ গবেষণায় আরও দৃঢ় অবস্থান নেবে এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব উৎক্ষেপণযান ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারে।
এই তিন স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থিতিশীলভাবে কার্যক্রম শুরু করলে দেশটির তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছে তেহরান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইরানের মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতামূলক যুগে তাদের অগ্রযাত্রাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।