খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের পরিচালিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য হতাহত হয়েছেন। এই দাবি সত্য হলে, এটি হবে গত কয়েক দশকের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর ইরানের পক্ষ থেকে চালানো সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ আক্রমণ। আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং সাগরে মোতায়েনকৃত যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে সাগরে; যেখানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানি উপকূলীয় জলসীমা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত এই বিশালাকার রণতরীটি লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনী চারটি অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই আকস্মিক আক্রমণের মুখে রণতরীটি তার অবস্থান ত্যাগ করে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট’ জাহাজটিও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানি গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে দাবি করা হয়েছে যে, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে চালানো হামলায় ১৬০ জন মার্কিন সদস্য হতাহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই ক্ষয়ক্ষতির খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা না হলেও ইরান বিষয়টিকে ‘তথ্য গোপনের চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত তালিকা:
| আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু | ক্ষয়ক্ষতির ধরণ | হতাহতের সংখ্যা (দাবি অনুযায়ী) |
| মার্কিন ৫ম নৌবহর সদরদপ্তর | ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা | ১৬০ জন |
| ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন | ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কবলে পড়া | রণতরী পিছু হটেছে |
| এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ | সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত | মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত |
| অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিসমূহ | ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র | প্রায় ৪৯০ জন |
| মোট হতাহত | — | ৬৫০+ জন |
ইরানি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত আগ্রাসনের জবাবে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ মূলত একটি বার্তা, যা প্রমাণ করে যে ইরানের দোরগোড়ায় যেকোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি এখন সরাসরি হুমকির মুখে। জেনারেল নায়েইনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আক্রমণ বন্ধ না হয় তবে হতাহতের এই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন রণতরী পিছু হটায় ওই অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। যদিও পেন্টাগন থেকে এখনও পূর্ণাঙ্গ কোনো বিবৃতি আসেনি, তবে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা মার্কিন-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ সংঘাতের সূচনা করতে পারে। ইরানের এই সাহসি ও বিধ্বংসী পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।