খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র শক্তির মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বোয়িং ই-৩ সেনট্রি হুমকিপূর্ণ বিমান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই বিমান যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের অংশ, যা আকাশে থাকা অন্যান্য বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত এবং আকাশ অপারেশন সমন্বয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। একই ঘটনায় কয়েকটি বিমান জ refueling ট্যাঙ্কারও ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর মাত্র ১৬টি ই-৩ সেনট্রি বিমান রয়েছে, যা শীতল যুদ্ধকালে ৩০টি বিমান থাকা অবস্থার তুলনায় কম। এর উন্নত রাডার এবং কমান্ড ক্ষমতা কমান্ডারদের শত শত কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র রাখতে সহায়তা করে।
নষ্ট হওয়া একটি ই-৩ পুনঃপ্রতিস্থাপন করা সহজ বা সস্তা নয়। আধুনিক সমতুল্য বোয়িং ই-৭ ওয়েজটেল বিমান প্রতি ইউনিটে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হয় এবং সীমিত পরিমাণে ক্রয় করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সৌদির সামরিক স্থাপনার উপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার একটি ধারা দেখা গেছে। নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক হামলার সারসংক্ষেপ দেখানো হলো:
| তারিখ | লক্ষ্যস্থান | ফলাফল |
|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি | বিস্ফোরণ রিপোর্ট করা হয়েছে, কিন্তু বড় ক্ষতি সাধারণভাবে প্রকাশিত হয়নি |
| ১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্স সুলতান ও অন্যান্য ঘাঁটি | ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত, পরে এক মার্কিন সেনা নিহত রিপোর্ট করা হয় |
| ৩ মার্চ ২০২৬ | যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, রিয়াদ | UAV হামলায় সীমিত ক্ষতি |
| ১২–২৭ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি | একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন হামলা; বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস; মার্কিন সেনা আহত |
| ২৭ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি | ই-৩ সেনট্রি ধ্বংস; ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত; ১২ মার্কিন সৈন্য আহত |
এই হামলার ধারা স্থানীয় ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং মিত্রশক্তি ও প্রোক্সি বাহিনীকে যুক্ত করেছে।
একটি কৌশলগত frühen সতর্কতা বিমান ধ্বংস হওয়ায় কোয়ালিশন বাহিনীর নজরদারি ও কমান্ড পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হবে। সীমিত AWACS ফ্লিট এবং ব্যয়বহুল প্রতিস্থাপন বিমান থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
এই ঘটনায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রকৃতি আরও জটিল হতে পারে।