খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর গত ৫০ দিনের মধ্যে একদিনে শিশুমৃত্যুর এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মৃত ১৭টি শিশুর মধ্যে ১৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং বাকি ২ জন সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ৫০ দিনে দেশে এই রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১১ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবারের (৪ মে) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৭টি শিশুর মধ্যে ১২ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অবশিষ্ট ৫টি শিশু চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যুবরণ করেছে। সরকারি হিসাবমতে, মোট ৩১১ জন মৃতের মধ্যে ৫২ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং ২৫৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। সংক্রমণের তীব্রতা ঢাকা বিভাগে সবথেকে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বিভাগওয়ারি সংক্রমণ ও হাসপাতালের চিত্র নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিভাগের নাম | নতুন উপসর্গযুক্ত শিশু | হাসপাতালে ভর্তি | হাসপাতাল থেকে ছাড়প্রাপ্ত |
| ঢাকা | ৬১৮ | (তথ্য পাওয়া যায়নি) | (তথ্য পাওয়া যায়নি) |
| চট্টগ্রাম | ১৯২ | (তথ্য পাওয়া যায়নি) | (তথ্য পাওয়া যায়নি) |
| রাজশাহী | ১৬৮ | (তথ্য পাওয়া যায়নি) | (তথ্য পাওয়া যায়নি) |
| বরিশাল | ১৩৩ | (তথ্য পাওয়া যায়নি) | (তথ্য পাওয়া যায়নি) |
| অন্যান্য বিভাগ | ১৯১ | (তথ্য পাওয়া যায়নি) | (তথ্য পাওয়া যায়নি) |
| সর্বমোট | ১,৩০২ | ১,০২৬ | ১,০৬১ |
গত ২৪ ঘণ্টায় (৩ মে সকাল ৮টা থেকে ৪ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে ১ হাজার ৩০২টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬১৮ জন শনাক্ত হয়েছে। এর পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম (১৯২ জন), রাজশাহী (১৬৮ জন) এবং বরিশাল (১৩৩ জন)।
বর্তমানে দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ হাজার ২৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৬১ জন শিশু। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত ১৫ জন শিশুর মধ্যে ২ জন মূলত পূর্ববর্তী দিন মৃত্যুবরণ করেছিল, যা সোমবারের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে বিশেষ ধরনের লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) বা মারাত্মক ডায়রিয়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা মূলত শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি।
হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা গ্রহণ করা। সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দেশব্যাপী সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশন বা আলাদা রাখার মাধ্যমে সংক্রমণের বিস্তার কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।