খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি সফল অভিযানে মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে, ২০২৬) ভোরে পরিচালিত এই অভিযানে মাদক চোরাচালান ও অস্ত্র মজুদের একটি বড় আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় নৌবাহিনী। অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং ১ লাখ পিস ইয়াবা। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে চিহ্নিত এক অপরাধীকেও আটক করা হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোররাতে নৌবাহিনীর একটি বিশেষ দল টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলিখালি এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে একটি ইটভাটাকে কেন্দ্র করে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন অভিযানকারীরা। নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই ইটভাটার একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে মাটির গভীরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে মাদক ও অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের বর্তমান বাজারমূল্য ও অস্ত্রের বিবরণ নিচের তালিকায় তুলে ধরা হলো:
| উদ্ধারকৃত আইটেমের নাম | পরিমাণ/সংখ্যা | আনুমানিক বাজারমূল্য/বিবরণ |
| ক্রিস্টাল মেথ (আইস) | ৫ কেজি | প্রায় ২৫ কোটি টাকা |
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ১,০০,০০০ (এক লাখ) পিস | প্রায় ৩ কোটি টাকা |
| বিদেশি পিস্তল | ০২ টি | অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র |
| ম্যাগাজিন | ০২ টি | পিস্তলের সাথে ব্যবহারযোগ্য |
| তাজা গোলাবারুদ | ০৪ রাউন্ড | লাইভ বুলেট |
| সর্বমোট আর্থিক মূল্য | — | প্রায় ৩০ কোটি টাকা |
অভিযান চলাকালে আলিখালি এলাকা থেকে নুরুল কবির নামে এক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয় নৌবাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত নুরুল কবির ওই এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাভেদে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে আত্মগোপনে ছিলেন।
নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত মাদক ও অস্ত্রশস্ত্রের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। উদ্ধারকৃত আলামত এবং আটককৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমার থেকে ক্রিস্টাল মেথ বা আইস এবং ইয়াবার বড় চালানগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে চোরাকারবারিরা লোকালয়ের ইটভাটা বা নির্জন স্থানে মাটির নিচে এসব নিষিদ্ধ পণ্য লুকিয়ে রাখার কৌশল অবলম্বন করছে।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মাদক নির্মূল ও অস্ত্র উদ্ধারে তাদের এই ধরনের গোয়েন্দা ভিত্তিক বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বাহিনীটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপকূলীয় এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।