খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও ভ্রমণকালীন আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। মূল লক্ষ্য হলো ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে গ্রাহকরা যেন নগদ অর্থের সংকটে না পড়েন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন।
ঈদের ছুটিতে সাধারণত এটিএম (ATM) বুথগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় বুথে টাকা না থাকা বা কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত নগদ টাকার সরবরাহ বজায় রাখতে হবে এবং কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে তা দ্রুততম সময়ে মেরামত করতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) এজেন্ট পয়েন্টগুলোতেও পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা ‘ই-মানি’ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নিচে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার প্রধান দিকগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| সেবার ধরণ | বিশেষ নির্দেশনা ও করণীয় |
| এটিএম বুথ | পর্যাপ্ত নগদ টাকা সরবরাহ, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও কারিগরি দল নিয়োজিত রাখা। |
| পয়েন্ট অব সেল (POS) | বিপণিবিতানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন পেমেন্ট সেবা ও জালিয়াতি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি। |
| ইন্টারনেট ব্যাংকিং | লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ (2FA) ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা। |
| এমএফএস (বিকাশ/নগদ) | এজেন্ট পয়েন্টে পর্যাপ্ত নগদ টাকা রাখা এবং সিস্টেম সচল রাখা। |
| গ্রাহক সেবা | প্রতিটি ব্যাংকের হেল্পলাইন বা কল সেন্টার সার্বক্ষণিক চালু রাখা। |
অনলাইন লেনদেন ও ই-পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে কেনাকাটার সময় জালিয়াতি রোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে কার্ড ছাড়াই অনলাইনে পেমেন্টের ক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে বাড়তি নিরাপত্তা স্তর নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনো গ্রাহক যদি লেনদেন করার পর তাৎক্ষণিক ফল না পান বা কারিগরি কারণে টাকা আটকে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিজ উদ্যোগে তা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেকোনো অংকের লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এর ফলে গ্রাহক তার হিসাবের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, উৎসবের সময় সাইবার অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সচেতন করতে গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদের ছুটিকালীন ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঝটিকা সফরের মাধ্যমে এটিএম বুথগুলোর সেবার মান যাচাই করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কঠোর নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো উৎসবের আনন্দকে বিষাদমুক্ত রাখা। কোনো ব্যাংক বা পরিশোধ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি এই নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হয় এবং গ্রাহক হয়রানির শিকার হন, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সতর্ক করা হয়েছে।