খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২ লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সহায়তা মূলত নিহতদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক নাগরিকদের সহায়তার জন্য ব্যয় করা হবে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিশেষ করে একটি বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানিতে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে বেইজিং। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে চীনের রেড ক্রস সোসাইটি ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে জরুরি সহায়তা প্রদান করবে।
মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, মানবিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে চীন সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে ইরানের জনগণের পাশে থাকতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বেসামরিক স্থাপনায় হামলা মানবতা ও মানব বিবেকের মৌলিক সীমা অতিক্রম করে। এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধবিধির গুরুতর লঙ্ঘন।”
চীন একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেইজিংয়ের মতে, প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মৌলিক দায়িত্ব। গুয়ো জিয়াকুন বলেন, সংঘাত দ্রুত বন্ধ করে সব পক্ষকে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরে আসতে হবে, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ না করে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে অবস্থিত শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫০ জন স্কুলছাত্রী নিহত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় সামরিক অভিযান শুরু করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটিতে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রাথমিক তথ্যসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | আনুমানিক তথ্য |
|---|---|
| স্কুলে হামলার তারিখ | ২৮ ফেব্রুয়ারি |
| নিহত স্কুলছাত্রী | প্রায় ১৫০ জন |
| মোট নিহত (সাম্প্রতিক সংঘাতে) | ১,৩০০ জনের বেশি |
| আহত | ১০,০০০ জনের বেশি |
| চীনের জরুরি সহায়তা | ২ লাখ মার্কিন ডলার |
এদিকে হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে মার্চের শুরু থেকেই ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত সীমিত করে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়। পাশাপাশি বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশও এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই প্রণালিতে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে।