খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখায় কারা দায়িত্ব পালন করেন, তা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন জাওয়াদ নির্ঝর। শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
পোস্টে জাওয়াদ নির্ঝর জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক (অপারেশন) এনামুল করিম সুমন বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তার দাবি, এনামুল করিমের মা ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী আ স ম আবদুর রবের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। ১৯৯৬ সালে রব নৌপরিবহনমন্ত্রী থাকার সময় মায়ের অনুরোধেই এনামুল করিমের চাকরি হয়। এরপর থেকেই তার ‘কপাল খুলে যায়’। সরকারের পরিবর্তনের পর নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। একসময় নিজেকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। বর্তমানে আবার নিজেকে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থক বলে দাবি করেন।
নির্ঝর আরও লিখেছেন, টানা ১৭ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন এনামুল করিম। বন্দরের পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রায় সব অবৈধ লেনদেন তার নিয়ন্ত্রণে। বন্দরে যেসব শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ হয়, সেসব নিয়োগের পেছনেও তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রত্যেক নিয়োগে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। এই ঘুষ নেওয়ার প্রক্রিয়া চালান তার বিশ্বস্ত তিনজন সহযোগী—বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগ (রেজিস্ট্রেশন) ২৭৪৭-এর সভাপতি মীর নওশাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল চৌধুরীর মাধ্যমে।
এছাড়া বন্দরের অকশন ইয়ার্ডে এনামুল করিম সুমনের বেনামি অংশীদারিত্ব রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে পোস্টে। বন্দরের জেটিতে উঠানামা করা প্রতিটি কনটেইনার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তার পকেটে যায়। যারা এই আলাদা টাকা দেন না, তাদের কনটেইনার বিভিন্ন কৌশলে আটকে রাখা হয়।
এনামুল করিম বন্দরে আসা প্রতিটি ফাইল নিজে তদারকি করেন বলেও অভিযোগ করেছেন জাওয়াদ নির্ঝর। তিনি লিখেছেন, প্রতিটি ফাইল ছাড় করাতে ৫ হাজার থেকে শুরু করে কোটি টাকাও দিতে হয়। এসব দেখভাল করেন তার ব্যক্তিগত সহকারী সুজন, যিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির লোক বলে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। এখনও সুজন একইভাবে প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া, বহির্নোঙরসহ অন্যান্য বিশেষায়িত জেটিতে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের জন্য ২৩টি লাইসেন্স দেওয়া হয়, যার একটি পেয়েছিলেন এনামুল করিম সুমন। ওই লাইসেন্সের একটি অংশের মালিক আরসাদুল আলম বাচ্চু, যিনি সাবেক হুইপ শামসুল হকের ছেলে শারুনের ব্যবসায়িক অংশীদার।
জাওয়াদ নির্ঝর অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাচ্চু কনটেইনারে করে সোনা ও অবৈধ পণ্যের চালান আনতেন, যাতে সহায়তা করতেন এনামুল করিম। এর বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করতেন তিনি। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বরাতে নির্ঝর দাবি করেন, এনামুল করিম সুমনের সম্পদের পরিমাণ ৮০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তার নামে ও বেনামে দেশজুড়ে বিপুল সম্পদ এবং ব্যবসা রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও তার বাড়ি ও বিনিয়োগ রয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন