ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের ঘনঘটায় আচ্ছন্ন, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে দেশটিতে মার্কিন স্থলবাহিনী (Ground Troops) মোতায়েন করা হতে পারে। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট এবং সিএনএন-কে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বর্তমান হামলাগুলো কেবল একটি “বিশাল ঢেউয়ের” শুরু মাত্র, যার মূল আঘাতটি এখনো বাকি।

স্থলবাহিনী মোতায়েন ও কৌশলগত অবস্থান

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, পূর্ববর্তী অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো তিনি আগেভাগেই কোনো সামরিক সীমাবদ্ধতা ঘোষণা করতে রাজি নন। তিনি বলেন, “আমি অন্য সবার মতো বলছি না যে স্থলভাগে কোনো সৈন্য পাঠানো হবে না। যদি প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই পাঠানো হবে।” যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে হয়তো এর প্রয়োজন পড়বে না, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সব পথই খোলা রাখছে ওয়াশিংটন। তার এই মন্তব্যকে সামরিক বিশ্লেষকরা ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

নিচে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ও সামরিক পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:

বিষয় ট্রাম্পের অবস্থান ও মন্তব্য
স্থলবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন অনুযায়ী সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি।
অভিযানের ভবিষ্যৎ একটি ‘বিশাল ঢেউ’ বা বড় ধরনের আক্রমণ খুব শীঘ্রই আসবে।
অভিযানের সময়কাল ধারণা করা হয়েছিল ৪ সপ্তাহ লাগবে, তবে বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এগিয়ে।
আঞ্চলিক প্রভাব বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলায় ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ইরানি নেতৃত্ব দাবি অনুযায়ী প্রাথমিক হামলায় ইরানের অন্তত ৪৯ জন নেতা নিহত হয়েছেন।

জনমত ও ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠের’ সমর্থন

ইরানে সামরিক হামলার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৩ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এই জনমত জরিপকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, এটি জনমতের বিষয় নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যা সঠিক, তাকে তাই করতে হবে। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার একটি ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ অংশ এই অভিযানকে সমর্থন করছে এবং তারা ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যাবে না।

সংঘাতের ভয়াবহতা ও ভবিষ্যৎ বার্তা

ট্রাম্পের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, ইরানের ওপর মার্কিন আক্রমণ আরও তীব্রতর হতে যাচ্ছে। তিনি সিএনএন-কে বলেন, “আমরা এখনো তাদের ওপর কঠোর আঘাত শুরুই করিনি। বড় সেই ঢেউ এখনো আসেনি, যা খুব শীঘ্রই আছড়ে পড়বে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, ইরান ইতিমধ্যে জর্ডান, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে সংঘাতকে আঞ্চলিক রূপ দিয়েছে। এই যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৪৯ জন নেতার মৃত্যুর দাবি করে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তেহরানের নেতৃত্ব কাঠামো বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।

সংঘাতের স্থায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্প আশাবাদী যে এটি দীর্ঘায়িত হবে না। তবে তার এই ‘বড় আঘাতের’ হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে। বিশ্বনেতারা যেখানে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছেন, সেখানে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।