খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত সৃষ্টি না করলেও, তার প্রভাব দেশটির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভাবনার ওপর স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে। স্বল্পমেয়াদে চীনের কাছে কয়েক মাসের তেলের মজুত থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনে চীন রাশিয়ার সহায়তাও নিতে সক্ষম, কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
বেইজিংয়ে এই সপ্তাহে কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দেশের অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা—ভোক্তা ব্যয় সংকোচন, দীর্ঘমেয়াদী সম্পত্তি বাজারের সমস্যা এবং স্থানীয় ঋণের চাপ। ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো চীনা সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা কমিয়েছে, যদিও উচ্চমানের প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে।
চীনের রপ্তানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ফিলিপ শেটলার-জোন্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা চীনের দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাজারকেও প্রভাবিত করবে।
চীন ও ইরানের সম্পর্ক ইতিহাসে বেশ ঘনিষ্ঠ হলেও তা মূলত লেনদেনভিত্তিক। দুই দেশের মধ্যে কোনো দৃঢ় আদর্শিক বা সাংস্কৃতিক বন্ধন নেই। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তেহরান সফর করে এবং পরে ২০২১ সালে ২৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে চীন ইরানে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং ইরান নিয়মিত তেল সরবরাহ করবে। তবে বাস্তবে এই বিনিয়োগের বড় অংশ এখনও পৌঁছায়নি।
নীচের টেবিলে চীনের ইরানি তেল আমদানি এবং সংরক্ষণের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | পরিমাণ/বিস্তারিত | মন্তব্য |
|---|---|---|
| দৈনিক তেল আমদানি (২০২৫) | ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল | মোট আমদানের প্রায় ১২% |
| ভাসমান স্টোরেজ | ৪৬ মিলিয়ন ব্যারেল | এশিয়ার বিভিন্ন বন্দরে |
| স্থল সংরক্ষণ | দালিয়ান ও ঝৌশান | কাস্টমস ছাড়পত্র মেলেনি |
| অস্ত্র সহায়তা | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রাংশ | চীনের সরাসরি অস্বীকৃতি |
চীন এই সংঘাত থেকে সরাসরি জড়াতে চায় না। তবে বেইজিং ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে সার্বভৌম দেশকে লক্ষ্য করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা।
চীন সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, বিশেষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীঘ্রই বেইজিং সফরের প্রেক্ষিতে। এই সফর চীনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বোঝার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। চীন আশা করছে, সংঘাতের অস্থিরতা পশ্চিমা দেশের তুলনায় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে এবং তা চীনের কৌশলগত স্বার্থে কাজে লাগতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন যুদ্ধকে কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছে এবং চেষ্টা করছে নিজেদেরকে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে। চীনের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হল, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি থাকা সত্ত্বেও সামরিকভাবে সরাসরি মিত্রদের রক্ষা করার সক্ষমতা নেই। তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ চীনের জন্য সচেতনভাবে বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।