খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
ইরান বর্তমানে চলমান যুদ্ধ অন্তত ছয় মাস ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে দেশের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করেছেন। সাম্প্রতিক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত পরিচালনা করতে সক্ষম।”
আইআরজিসি দেশের অন্যতম শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। এটি কেবল সামরিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোয়েন্দা কার্যক্রম, রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতেও এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নাইনির এই বক্তব্য ইরানের সামরিক শক্তি ও প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিবৃতির সঙ্গে বিপরীতমুখী।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানকে অত্যন্ত সফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এ যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি। আমরা তাদের পুরো শয়তানি সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিয়েছি।” এই বিবৃতির সঙ্গে নাইনির বক্তব্য পুরোপুরি বিপরীতমুখী। মার্কিন মূল্যায়নে ইরানের সক্ষমতা ক্ষীণ বলে মনে করা হলেও আইআরজিসি তা প্রত্যাখ্যান করে।
আইআরজিসি ইরানের নিরাপত্তা নীতি, সামরিক কার্যক্রম এবং ভূ-রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংস্থার কর্মকাণ্ড কেবল সীমান্তরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংস্থা | ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর |
| প্রধান মুখপাত্র | আলি মোহাম্মদ নাইনি |
| দেশ | ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান |
| যুদ্ধ সক্ষমতা | অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা |
| প্রভাব | সামরিক, গোয়েন্দা, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি |
আইআরজিসির সামরিক সক্ষমতা এবং গোয়েন্দা শক্তি দেশের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংস্থার বর্তমান শক্তি এবং যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা মার্কিন মূল্যায়নের তুলনায় অনেক বেশি এবং এটি ইরানের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আইআরজিসি এর মতো শক্তিশালী সংস্থার উপস্থিতি ইরানের নিরাপত্তা নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখে। সংস্থার ক্ষমতা শুধু সামরিক নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃরাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোতেও এর প্রভাব সুস্পষ্ট।
এই বিবৃতিগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।