খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, দেশটির মাটিতে কোনো বিদেশি স্থলবাহিনী প্রবেশ করলে তাদের ধ্বংস করা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সাহসী সেনারা যে কোনো শত্রুর মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আরাগচি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান যথেষ্ট সক্ষম। আমাদের অত্যন্ত সাহসী ও প্রস্তুত সেনারা শত্রুর আগমনের অপেক্ষায় আছে। যারা ইরানের মাটিতে পা রাখবে, তাদের ধ্বংস করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাজার বছরের পুরোনো পারস্য সভ্যতার ঐতিহ্য ইরানকে সবসময় তার ভূমি রক্ষায় অনুপ্রাণিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও ইরান এই ভূমি রক্ষা অব্যাহত রাখবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে তেহরানের প্রতিরক্ষা ও প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার জন্য নেওয়া বৈধ পদক্ষেপ। এটি আমাদের পছন্দের যুদ্ধ নয়; এই যুদ্ধ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
আরাগচি সংঘাতকে ‘উসকানিবিহীন, অযৌক্তিক ও অবৈধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপগুলো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সামরিক সম্পদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। যদি এসব ঘাঁটি প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডেও থাকে, তবুও সেগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বক্তব্য নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
নিচের টেবিলে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ এবং লক্ষ্যবস্তু সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | তারিখ | লক্ষ্যবস্তু | পদক্ষেপের ধরন | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ২০২৬-০২-১৫ | মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, ইরাক | ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | আত্মরক্ষার দাবি |
| ২ | ২০২৬-০২-২০ | ইসরায়েলি সীমান্ত | সীমান্ত পর্যবেক্ষণ ও হামলা | প্রতিক্রিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের |
| ৩ | ২০২৬-০৩-০১ | সৌদি আরবের নিকটবর্তী সামরিক ঘাঁটি | সামরিক মহড়া ও লক্ষ্যবস্তু পরীক্ষা | সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তারা যুক্তি দেন যে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি দৃঢ় হলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
আরাগচির এই বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দ্বৈরথকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা সম্ভাব্য মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকদের সতর্ক করেছে।