ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করল জাতিসংঘ

যুদ্ধক্ষেত্র ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের ‘কালো তালিকা’ বা ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রশ্ন তোলে।

‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের এই তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইসরায়েল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা (Conflict-Related Sexual Violence – CRSV) বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে সশস্ত্র সংঘাত চলাকালে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও অন্যান্য যৌন সহিংসতার অভিযোগে জড়িত পক্ষগুলোকে চিহ্নিত করা হয়।

‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, এবার ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ (Israel Prison Service – IPS) এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কিছু ইসরায়েলি সংস্থাকে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলকে হামাস, ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস) এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে একই তালিকায় স্থান দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, এটি জাতিসংঘের নৈতিক অবস্থানকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

জাতিসংঘের এই ব্ল্যাকলিস্ট মূলত একটি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদনভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে সশস্ত্র সংঘাতের সময় সংঘটিত যৌন সহিংসতার অভিযোগে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, আধাসামরিক গোষ্ঠী বা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিবেদনটির উদ্দেশ্য হলো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা উপস্থাপন করা।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিন অঞ্চলে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ নানা ধরনের যৌন সহিংসতার অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ কাঠামো বিষয়টি পর্যালোচনায় নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ ও জাতিসংঘের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।