খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৫ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইসরায়েলের সামরিক হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তার ‘স্পষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন এই সহায়তা বন্ধ করে এবং ইসরায়েলি হামলা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়।
রোববার (১৫ জুন) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে আরাঘচি বলেন, ১৩ জুন থেকে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক, সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলার জবাব দেওয়ার এবং আত্মরক্ষার অধিকার ইরানের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েল এককভাবে এসব হামলা চালাতে পারত না।’ আরাঘচি জানান, ইরান ঘটনা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমেরিকার সেনাবাহিনী ইসরায়েলকে সহায়তা করছে এমন যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে। আরাঘচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের জবাবদিহি করতে হবে।’
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তারা এসব হামলাকে সমর্থন করে না এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা করতে হবে। তেহরান আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা থেকে নিজেকে দূরে রাখবে।
আরাঘচি আরও বলেন, ইরানের ওপর ইসরায়েলের এ হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও চুপ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি জানান, ইরান শুধু আত্মরক্ষা ও আগ্রাসনের জবাব দিতে ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকায় সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
আরাঘচি বলেন, প্রথম দিন ইরান শুধু ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু পরের দিন ইসরায়েল যখন ইরানের অর্থনৈতিক স্থাপনায় আক্রমণ শুরু করে, তখন শনিবার রাতে ইরানও পাল্টা জবাব দেয় এবং তাদের অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল তেহরানের কিছু আবাসিক এলাকা, সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, অন্তত ছয়জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং অনেক সাধারণ মানুষ শহিদ হয়েছেন।
এ হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের দখলকৃত বিভিন্ন শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা আঘাত হানে। সূত্র : মেহের নিউজ
খবরওয়ালা/এন