খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে পৌষ ১৪৩২ | ২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারে ব্যপক সংকট ও দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাধারণ ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় দেড়শ’ থেকে অর্ধেক হাজার টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে ১২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েছে।
মোহাম্মদপুরের কাওসার খান জানিয়েছেন, গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে এলপিজি শেষ হওয়ার পর তিনটি দোকানে খোঁজ নিয়েও সিলিন্ডার পাননি। অবশেষে একটি সিলিন্ডার পেয়ে দেড় হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধি আশা করা যায় না। এটা খুবই চিন্তার বিষয়।”
কল্যাণপুরের নতুন বাজার এলাকার ফারজানা নীলা ও মিরপুরের কাজীপাড়ার আসমা আখতারও একই অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর তারা ১২ কেজির এলপিজি খুঁজে পাননি, পরে যথাক্রমে ১,৮০০ ও ২,১০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হন। অথচ সরকারি নির্ধারিত দাম ছিল ১,২৫৩ টাকা।
ঢাকার চারটি খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে আলাপ থেকে জানা গেছে, চাহিদা থাকলেও সরবরাহ নেই। ফলে যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে, এবং বিক্রেতারাও সেই বাড়তি দাম চালু রাখছেন।
সারা দেশের এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, “বেশিরভাগ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানিই সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। চাহিদার তুলনায় মাত্র ২০–৩০ শতাংশ সরবরাহ হচ্ছে। এতে ট্রান্সপোর্ট খরচ বেড়েছে, প্রতি সিলিন্ডারে কোম্পানি ৭০–৮০ টাকা অতিরিক্ত নেবে।”
দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে শীতের মৌসুমে বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি ও আমদানির জাহাজসংকট। ২৯টি নিয়মিত এলপিজি পরিবহন জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ায়, আগের মাসের তুলনায় আমদানি কমে গেছে। প্রতি মাসে গড়ে ১,৩০,০০০–১,৪০,০০০ টন এলপিজি আমদানি হলেও, ডিসেম্বরে মাত্র ৯০,০০০ টন এলপিজি এসেছে।
বিইআরসি ও বাজারের সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সরকারি নির্ধারিত দাম | প্রতি ১২ কেজি ১,২৫৩ টাকা |
| এ সময় বিক্রয়মূল্য | ১,৮০০–২,১০০ টাকা |
| সরবরাহের অভাব | চাহিদার মাত্র ২০–৩০% |
| মাসিক এলপিজি আমদানি | গড়ে ১,৩০,০০০–১,৪০,০০০ টন |
| ডিসেম্বরে আমদানি | ৯০,০০০ টন |
| অতিরিক্ত খরচ | প্রতি সিলিন্ডার ৭০–৮০ টাকা |
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা আইনত অপরাধ। কমিশন ইতিমধ্যে লোয়াবকে চিঠি দিয়েছে যাতে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা হয়। তবে বাজার নজরদারির সক্ষমতার অভাবে কার্যকর পদক্ষেপ সীমিত।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, “সরবরাহ না থাকলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এটি ভোক্তাদের জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারের কোনো দপ্তর বা স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
শীত ও জাহাজসংকটের কারণে সংকট স্থায়ী হলে, আগামী দিনে এলপিজির দাম আরও বাড়তে পারে। ভোক্তাদের জন্য এখন সময়োচিতভাবে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।