খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২২ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৯ বছরের মেহেনাজ আফরি হুমায়রা। একমাত্র মেয়েকে চিরবিদায় জানানোর আগে কফিনে বারবার চুমু খাচ্ছিলেন বাবা দেলোয়ার হোসাইন। মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হতেয়া কেরানিপাড়ায় দেখা গেছে মর্মান্তিক সেই দৃশ্য।
মেহেনাজ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা দেলোয়ার হোসাইন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। দুর্ঘটনার সময় স্কুলেই অবস্থান করছিলেন তিনি ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার। তবে তারা দুজন প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁদের একমাত্র সন্তান হুমায়রা আর বেঁচে ফেরেনি।
প্রতিদিন বাবার কপালে চুমু দিয়ে ক্লাসে যেত হুমায়রা। এবার বাবার চোখের সামনে কফিনবন্দী হয়েই বাড়ি ফিরল সে। বাবার হাত ধরে কখনো আর স্কুলে যাওয়া হবে না তার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিমান দুর্ঘটনার পর মেহেনাজের কোনো খোঁজ মিলছিল না। পরে বিকেলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) বাবা দেলোয়ার হোসাইন মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে মেহেনাজের মৃত্যুর খবর। রাত দুইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে রাতের আকাশ। এলাকাবাসী প্রিয় ছোট্ট মেহেনাজের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
হতেয়া গ্রামের আবদুল বাছেদের ছেলে দেলোয়ার হোসাইন ১৫ বছর আগে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১১ বছর আগে তিনি টাঙ্গাইলের মেয়ে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান মেহেনাজ বাবার স্কুলেই পড়ত।
দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘মেহেনাজের ছুটি হয়েছিল। তাকে বলেছিলাম, অপেক্ষা করো, তোমার মা নিতে আসবে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে, আমার স্ত্রী (সুমি) শ্রেণিকক্ষের কাছে যাওয়ার আগেই ওর সামনে দিয়ে বিমানটি আমার মেয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। সব ঘটনা আমার স্ত্রীর চোখের সামনেই ঘটেছে। তাঁকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব?’
তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘কোটি লোকের বাসস্থান ঢাকা শহরের ভেতরে কেনো বিমানের প্রশিক্ষণ হয়?’
কোরবানির ঈদের ছুটিতে মেহেনাজ মা–বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছে দাদা–দাদির সঙ্গে। সেই স্মৃতি ভুলতে পারছেন না দাদা আবদুল বাছেদ। কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপা গলায় তিনি বলেন, ‘আমার দাদু আর কোনো দিন আসবে না। আর আমাকে দাদু বলে ডাকবে না!’
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় হতেয়া গাবলের বাজারে মেহেনাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
খবরওয়ালা/এন