খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরান তার সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ড. আলি লারিজানির হত্যার প্রতিশোধে ইসরায়েলের বিপুল লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। হামলায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় ভেঙে পড়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৬১তম ধাপে তারা তেল আবিব ও আশেপাশের অঞ্চলে ১০০টিরও বেশি সামরিক, নিরাপত্তা ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২৩১ জন হতাহত হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন প্রকার ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্লাস্টার বোমা, যার মধ্যে খোররমশাহর-৪, কাদর, এমাদ ও খেইবার শেকান প্রজেক্টাইল উল্লেখযোগ্য। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান ড. লারিজানির শাহাদাতের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে কোনো বাধা ছাড়াই আঘাত হেনেছে, যা ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে।”
ইসরায়েলে হামলার পর দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলিতে মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসযজ্ঞে সরকারি ভবন, সামরিক স্থাপনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
নিচের টেবিলে হামলার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্যসূচক | বিবরণ |
|---|---|
| হামলার সময় | ১৮ মার্চ, ২০২৬ |
| লক্ষ্যবস্তু সংখ্যা | ১০০+ |
| ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র | খোররমশাহর-৪, কাদর, এমাদ, খেইবার শেকান |
| হতাহতের সংখ্যা | ২৩১ |
| হামলার ধাপ | ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’, ৬১তম ধাপ |
| মূল উদ্দেশ্য | ড. আলি লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ |
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, এই হামলার ফলে ইসরায়েলের বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে এবং সামরিক স্থাপনার অধিকাংশই কার্যক্রম বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ইরানের এই তীব্র প্রতিশোধমূলক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত পুনঃসংগঠন ও সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। দেশটির নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। হামলার পর পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নজর রাখছে ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের পরবর্তী দিকনির্দেশের দিকে।