খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২১ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশটিতে থাকা প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় কর্মী এখন চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। মূলত কেয়ার গিভার এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবেই কাজ করেন তারা। অধিকাংশই দক্ষিণ ভারত থেকে আসা অভিবাসী, যারা ইসরায়েলের স্বাস্থ্য ও নির্মাণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
যুদ্ধ ও উদ্বেগের মধ্যে জীবন
১৩ বছর ধরে ইসরায়েলে থাকা ভারতের কর্ণাটকের রাঘবেন্দ্র নাইক বলেন, ‘সাইরেন বাজলেই বাঙ্কারে দৌড়াতে হয়, রাতে ঘুমাতে পারি না। জানি না আবার দেশে ফিরতে পারব কি না।’
তেলেঙ্গানা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোমা রভি, ২০ বছর ধরে কর্মরত, তিনিও বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ায় অনিশ্চয়তা বেড়েছে।’
ভারতীয় কর্মীদের সংখ্যা ও কাজের ধরণ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮,০০০ থেকে ২০,০০০ ভারতীয় কর্মী বর্তমানে ইসরায়েলে আছেন, যাদের একটি বড় অংশ কেয়ার গিভার এবং নির্মাণ শ্রমিক।
২০২৩ সালে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে এই সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৬,৬৯৪ জন কর্মী সরকারিভাবে সেখানে গেছেন।
এ ছাড়া, ১৯৫টি ইসরায়েলি কোম্পানিতে ভারতীয় কর্মী নিয়োগ হয়েছে।
কেন ইসরায়েলকেই বেছে নিচ্ছেন ভারতীয়রা?
কেয়ার গিভার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে আসা পিএন লরেন্স বলেন, ‘যুদ্ধের ঝুঁকি সত্ত্বেও ইসরায়েলে মাইনে ভালো, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও রয়েছে।’
ড. আসিফ ইকবাল, ইন্ডিয়ান ইকনোমিক ট্রেড অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট, জানান, ‘স্বাস্থ্যসেবা ও কনস্ট্রাকশন – এই দুই খাতেই ভারতীয়দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নার্স, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অদক্ষ শ্রমিক হিসেবেও ভারতীয়দের চাহিদা রয়েছে।’
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদিরাও আছেন
বর্তমানে ৮৫ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদী ইসরায়েলে বসবাস করছেন, যারা মূলত ৫০-৬০’র দশকে মহারাষ্ট্র, কেরালা, কলকাতা থেকে সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন।
নাগরিকত্ব পাওয়া অনেক ভারতীয় এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতেও কর্মরত।
নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যতের শঙ্কা
গাজার সংঘাতের পর এখন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তেল আভিভের ব্যবসায়ী বেনি নাইডু বলেন, ‘এখনকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। চতুর্দিকে মৃত্যুর ভয়।’
ইসরায়েল-নিবাসী ইয়াকভ টকার জানান, ‘আগে এত ভারতীয় কর্মী দেখা যেত না, এখন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন।’
বাড়ি ফেরার ইচ্ছা
সাম্প্রতিক হামলায় পরিচিত জনদের হারিয়ে অনেকেই মনে করছেন, এটাই ফিরে যাওয়ার সময়। রাঘবেন্দ্র নাইক বলেন, ‘দেশে ফিরে যাব ভাবছি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে আর থাকা সম্ভব নয়।’
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/আরডি