খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সরাসরি যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গেল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। শনিবার (৫ জুলাই) পবিত্র আশুরার আগের দিন তেহরানের ইমাম খোমেইনি মসজিদে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এ সময় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার উপস্থিতির ভিডিও সম্প্রচার করা হয়, যা ইরানি জনগণের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রবিবার (৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানায়, খামেনির এই জনসম্মুখে উপস্থিতি যুদ্ধকালীন সময়ে তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন গুজবের জবাব হিসেবে এসেছে। এর আগে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় তিনি জনসমক্ষে না থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল, হয়তো তিনি কোনো গোপন বাংকারে অবস্থান করছিলেন।
গত ১৩ জুন থেকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়, যখন ইসরায়েলের আকস্মিক হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। ১২ দিনব্যাপী এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি অংশ নেয়। ২২ জুন মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায়—ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে—হামলা চালায়। এই অভিযানে যুক্ত ছিল অন্তত ১২৫টি সামরিক বিমান।
ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যা নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আশুরার পূর্বদিন আয়োজিত ধর্মীয় আয়োজনে খামেনিকে অংশ নিতে দেখা যায়। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি প্রবীণ শিয়া ধর্মীয় নেতা মাহমুদ কারিমিকে অনুরোধ করেন দেশাত্মবোধক গান ‘ও ইরান’ পরিবেশনের জন্য—যা যুদ্ধকালীন সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
খামেনির এই উপস্থিতি সময়োপযোগী ও কৌশলগত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে এটি ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে জনগণের সংযোগ বজায় রাখে, অন্যদিকে যুদ্ধকালীন উদ্বেগ নিরসনে এক প্রতীকী আশ্বাসও দেয়।
উল্লেখ্য, মোহররম মাসে আশুরা উপলক্ষে ইরানে প্রতিবছর ব্যাপক শোক পালন করা হয়। আশুরার দিন মুসলিমরা কারবালার যুদ্ধক্ষেত্রে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেইনের শাহাদত স্মরণ করেন। এই দিনে খামেনিকে নিয়মিত জনসমক্ষে দেখা গেলেও এবার তার অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা ছিল।
এর আগে গত ২৬ জুন খামেনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘ইরান কখনোই ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।’ এ বক্তব্যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।
যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই খামেনির সরাসরি জনসমক্ষে আসা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
খবরওয়ালা/আরডি