খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠান ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্প্রতি ডিজিটাল বা ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় কোম্পানির সাধারণ বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০২৫ সালের সমাপ্ত বছরের আর্থিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে মোট ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (ক্যাশ ডিভিডেন্ড) সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোম্পানিটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এই বার্ষিক সাধারণ সভা পরিচালিত হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে আয়োজিত এই সভায় কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ সেলিম ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিচালক, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট) অনুমোদন করা হয়। এর পাশাপাশি, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে আগামী ২০২৬ সালের আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষার জন্য নতুন সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক (স্ট্যাটুটরি অডিটর) এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবও সভায় পাস হয়।
সভাপতির বক্তব্যে কোম্পানির চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ সংকুচিত হয়েছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক বিমা খাতের ওপর।
এই চরম প্রতিকূল ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্স তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৫ হিসাব বছরে ৯৬ কোটি ৯০ লাখ টাকারও বেশি প্রিমিয়াম আয় করতে পেরেছে, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
মাহবুবুর রহমান আরও জানান, ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্স গ্রাহকদের আস্থা ও অধিকার রক্ষায় সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি গ্রাহকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৪৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিমা দাবি (ইন্সুরেন্স ক্লেইম) সফলভাবে পরিশোধ করেছে। সময়মতো ও স্বচ্ছতার সাথে এই বিশাল অঙ্কের দাবি পরিশোধের ফলে বাজারে কোম্পানির সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা আরও মজবুত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সভায় অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরাও প্রতিকূল সময়ে কোম্পানির এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন।