খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কঠোর বার্তা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, ঈদযাত্রায় সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি কোনো পরিবহন মালিক বা শ্রমিক এই নির্দেশনা অমান্য করে কৃত্রিমভাবে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী এদিন নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল, নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাল্ক টার্মিনাল এবং ড্রেজার বেইড এলাকা ঘুরে দেখেন। এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিতব্য আধুনিক টার্মিনাল ভবনের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবারের ঈদযাত্রা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। বিশেষ করে যেসব মহাসড়ক বা নৌপথে প্রতিবছর তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, সেসব পয়েন্টগুলোতে আগে থেকেই বিশেষ নজরদারি ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।
নিচে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর দায়িত্বের একটি রূপরেখা প্রদান করা হলো:
| সংস্থা বা ক্ষেত্র | প্রধান দায়িত্ব ও লক্ষ্য | বিশেষ নির্দেশনা |
| ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ | মহাসড়কের যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা রক্ষা। | ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা। |
| নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড | লঞ্চ ও ফেরিঘাটে উপচে পড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণ। | ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিষিদ্ধ। |
| পরিবহন মালিক সমিতি | সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন। | কাউন্টারে চার্ট ঝুলানো ও ভাড়ার তালিকা মেনে চলা। |
| জেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত | টিকিট কালোবাজারি ও বাড়তি ভাড়া তদারকি। | স্পট ফাইন ও পারমিট বাতিলের ব্যবস্থা। |
পরিদর্শনকালে শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ পরিস্থিতি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নদীর নাব্যতা রক্ষা এবং দূষণ প্রতিরোধে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নদীকে দূষণমুক্ত করতে কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের কাজ যথেষ্ট নয়, বরং এটি একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ। তিনি বলেন, “শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা দ্রুতই পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করব। আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যে সকল সংস্কার কাজ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে।”
সড়ক ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জোর দিয়ে বলেন যে, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবকটি নিরাপত্তা সংস্থা এবার অত্যন্ত তৎপর থাকবে। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাটগুলোতে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই কোনো যান বা নৌযানে আরোহণ করবেন না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সচিব ও প্রকৌশলীবৃন্দ। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করে ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে এবারের ঈদ উৎসবের আমেজ সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তিমুক্ত হবে বলে সচেতন মহলে আশা করা হচ্ছে।