খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটির মধ্যেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট সোমবার, ১৬ মার্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে, যা পরে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়। নতুন এ নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, বন্দরনির্ভর লেনদেন এবং শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎসবভাতা পরিশোধের মতো জরুরি আর্থিক কার্যক্রমে যেন কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়া ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথ সীমিত আকারে খোলা রাখতে হবে। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় প্রশাসন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বন্দরসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বিবেচনায় সেবা চালু রাখতে বলা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকৃত পণ্য খালাস, রপ্তানি বিল নিষ্পত্তি, শুল্ক ও বন্দর চার্জ পরিশোধ, এলসি-সংক্রান্ত নথি নিষ্পত্তিসহ বহির্বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চলমান রাখা সহজ হবে।
এ ছাড়া ১৮ মার্চ ও ১৯ মার্চ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত বিশেষায়িত ব্যাংকশাখাগুলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে জোহরের নামাজের জন্য দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি থাকবে। তবে গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। শিল্পাঞ্চলভিত্তিক এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী, আশুলিয়া, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাকশিল্পঘন এলাকা। মূলত তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ নির্বিঘ্ন রাখতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৭ মার্চ এবং ২০ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক লেনদেনের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজ নিজ প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করতে পারবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সব ব্যাংকের জন্য একক সময়সূচি বাধ্যতামূলক করা হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার কার্যক্রম, গ্রাহকচাহিদা এবং সেবার প্রকৃতি বিবেচনায় নমনীয়তা রাখা হয়েছে। এতে বিশেষত বন্দর এলাকা, কাস্টমস স্টেশন, রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল এবং বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো প্রয়োজনমাফিক ব্যাংকিং সেবা চালিয়ে যেতে পারবে।
অন্যদিকে, যদি ২১ মার্চ শনিবার ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়, সে ক্ষেত্রে ওই দিন সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ ঈদের দিন কোনো শাখা খোলা রাখার সুযোগ নেই। ফলে ব্যাংকগুলোর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ছুটির মধ্যে সীমিত জনবল দিয়ে জরুরি সেবাগুলো সচল রাখা, আবার একই সঙ্গে নিরাপত্তা, নগদ অর্থের জোগান, এটিএম ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন ব্যাংকিং সেবা নির্বিঘ্ন রাখা।
ব্যাংক খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত কেবল সাধারণ লেনদেনের সুবিধা নয়, বরং বৃহত্তর অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। ঈদের আগে ও পরে বন্দরভিত্তিক পণ্য চলাচল, তৈরি পোশাক খাতের অর্থপ্রবাহ, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের নথি প্রক্রিয়াকরণে সামান্য বিলম্বও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সে বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগকে ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
নিচে নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | নির্দেশনা |
|---|---|
| নির্দেশনা জারির তারিখ | ১৬ মার্চ |
| নির্দেশনা প্রদানকারী বিভাগ | সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট |
| সীমিত ব্যাংকসেবার সময়কাল | ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ, ঈদের দিন ব্যতীত |
| কোথায় শাখা খোলা থাকবে | সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, বিমানবন্দর এলাকা; প্রয়োজনে শাখা, উপশাখা ও বুথ |
| শিল্পাঞ্চলের বিশেষ সময়সূচি | ১৮ ও ১৯ মার্চ, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা |
| গ্রাহক লেনদেনের সময় | সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা |
| নামাজের বিরতি | দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট |
| অন্তর্ভুক্ত শিল্পাঞ্চল | সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী, আশুলিয়া, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম |
| ঈদের দিন | সব ব্যাংক বন্ধ |
সব মিলিয়ে, ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।