খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে মাঘ ১৪৩২ | ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সমান্তরাল গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে জনগণ এবারের ভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের প্রত্যাশা করছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন স্বতন্ত্র, কারণ প্রথমবার এক সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে গেছে। এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে তরুণ ভোটাররা। এছাড়া মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী ভোটারও নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব রাখতে যাচ্ছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৃণমূল সমর্থকরাও এই সমীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।
একদিকে তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটাররা এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থকরা ভোটকক্ষে তাদের সিদ্ধান্ত গোপন রাখবেন। তারা প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক অবস্থান দেখাচ্ছেন না, কিন্তু ভোটের দিন তাদের সিদ্ধান্তই জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হবে।
এনিয়ে নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, “শেষ মুহূর্তের নীরব ভোটারদের ভোট যে প্রার্থী বা দলের দিকে যাবে, তারই বিজয় সম্ভাবনা বেশি।”
নিচের টেবিলে ভোটারের গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি ও সংখ্যাগত তথ্য দেওয়া হলো:
| ভোটার শ্রেণি | সংখ্যা (প্রায়) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মোট ভোটার | ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ | – |
| নারী ভোটার | ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ | মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক |
| ১৮-৩৫ বছর বয়সি তরুণ ভোটার | ৫ কোটি | প্রধান ‘কিংমেকার’ |
| সংখ্যালঘু ভোটার | ১ কোটি+ | নির্দিষ্ট দলের নয়, প্রভাবশালী |
| আওয়ামী লীগের তৃণমূল সমর্থক | আনুমানিক ৫০–৬০ লাখ | নীরবভাবে ভোটের সিদ্ধান্ত নেবেন |
তরুণ ভোটাররা সাধারণত রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে এলাকার উন্নয়ন, প্রার্থী-মানুষিক গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রার্থীর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে নতুন ভোটারের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত বিজয় নির্ধারণে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে।
নারী ভোটাররাও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিকভাবে তৃণমূলের বড় অংশ সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। যে কোনো আসনে তাদের একটি বড় অংশকে পক্ষে আনলেই ফলাফলে বড় প্রভাব পড়ে। দলগুলো তাই নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় নারীদের জন্য আলাদা মনোযোগ দিচ্ছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারও নীরবভাবে নির্বাচন শেষ করবেন। দেশের একাধিক আসনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ভেটি।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ড. আব্দুল আলীম বলেছেন, “এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক তরুণ ভোটার। ভোটের এই গতিবিধি অনুযায়ী যে প্রার্থী তাদের সমর্থন পাবে, সে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
নির্বাচন বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এ ভোটের প্রকৃতি এমন যে ভোটের ব্যবধান কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাই নীরব ভোটাররাই নির্ধারণ করবেন আসল বিজয়ীকে।