খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার অভিযোগে আতিয়ার দর্জি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই অভিযান পরিচালনা করে।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র সরকারের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে সক্রিয় ছিল। তারা ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন মহলে তদবির, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরই অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে প্রকৃত কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। মূলত সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং আর্থিক ফায়দা লুটতেই চক্রটি এই ফাঁদ পেতেছিল।
ডিজিটাল এই জালিয়াতির ঘটনায় ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়। মামলার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-১০। তারা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার মধ্যরাতে আজিমনগর এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আতিয়ার দর্জিকে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী বাগে আনে।
অভিযান চলাকালে আসামির হেফাজত থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস, অপরাধের কাজে ব্যবহৃত ৭টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৫টি এটিএম কার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ৯০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতিয়ার এই জালিয়াতির সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের সাইবার অপরাধ ও পরিচয় চুরির (Identity Theft) ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে কোনো চক্র যদি টাকা বা অন্য কোনো অনৈতিক সুবিধা দাবি করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি যাচাই করার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রেফতার আতিয়ার দর্জিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও রিমান্ডের আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।