রাজধানীর উত্তরার উত্তরখান এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। আহতরা হলেন হাসনা হেনা (৪০), আখি (২৫) এবং আলী হোসেন (৫০)। শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় সকালে রান্নার প্রস্তুতির সময় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে একই পরিবারের তিনজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আনার সময় তাদের অবস্থা গুরুতর ছিল বলে জানানো হয়।
প্রতিবেশী সুমন আফসারি জানান, সকালে রান্নার সময় হঠাৎ করেই ঘরে আগুন লেগে যায়। গ্যাস লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর দগ্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, দ্রুত উদ্ধার করে তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, উত্তরখান এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় তিনজন রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে।
চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলী হোসেনের শরীরের প্রায় শতভাগ অংশ দগ্ধ হয়েছে। হাসনা হেনার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং আখির শরীরের প্রায় ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আলী হোসেন এবং হাসনা হেনার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, দগ্ধ রোগীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—
আহত ব্যক্তির নাম
বয়স
দগ্ধের মাত্রা
বর্তমান অবস্থা
হাসনা হেনা
৪০
প্রায় ৬০ শতাংশ
আশঙ্কাজনক
আখি
২৫
প্রায় ১৫ শতাংশ
তুলনামূলক স্থিতিশীল
আলী হোসেন
৫০
প্রায় ১০০ শতাংশ
অত্যন্ত আশঙ্কাজনক
এই ঘটনায় তিনজনই বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধের মাত্রা বেশি হওয়ায় দুইজন রোগীর অবস্থা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ ধরনের গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনা সাধারণত রান্নাঘরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে না থাকলে কিংবা পাইপলাইনে ত্রুটি থাকলে ঘটে থাকে। তবে এ ঘটনায় কীভাবে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।