খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ১৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরায় সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে দম্পতির ওপর ধারালো রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর সময় স্বামীকে তাদের হাত থেকে বাঁচাতে ঢাল হয়ে অস্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন স্ত্রী এমন ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের দৃষ্টি কেড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টায়। রাতে মেহেবুল ও ইপ্তি দম্পতি উত্তরার আমির কমপ্লেক্স থেকে মার্কেট করে নিজেদের মোটরসাইকেলে চড়ে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর বাবার বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় আসামিরা দুটি মোটরসাইকেলে চড়ে বিকট শব্দে এলোমেলোভাবে সেক্টরের ওই ৯নং রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এবং একপর্যায়ে তারা একটি যাত্রীবাহী রিক্সাকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় দলবল নিয়ে ওই দম্পতির ওপর হামলা করে বসে কিশোর গ্রুপের ওই সদস্যরা।
মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে যাওয়া ওই দম্পতির পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন উত্তরার বাসিন্দা মেহেবুল হাসান ও নাসরিন আকতার ইপ্তি। কাজের সুবাদে তারা উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের বাবার বাড়িতে থাকতেন। বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা।
সর্বশেষ মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতিকে কোপানোয় জড়িত থাকা আলফাজ ওরফে শিশির নামের আরো এক আসামিকে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি হাফিজুর রহমান গ্রেফতারের সত্যতা গণমাধ্যেমকে নিশ্চিত করেছেন। আলফাজ ওরফে শিশির ওই মামলার ৩ নম্বর আসামি। এর আগে ঘটনার রাতেই মোবারক ও রবি রায় নামের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেয় স্থানীয়রা।
অপরদিকে, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় রাতেই (সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি) উত্তরা পশ্চিম থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা তিনজনসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নাসরিন আকতার ইপ্তি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা রিকসায় ধাক্কা দিয়ে উলটো রিকসায় থাকা যাত্রীদেরকে মারধর করে। রিকসাযাত্রীদের সঙ্গে সেসময় চার বছরের একটি শিশুও ছিল। এ নিয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতি প্রতিবাদ করায় মেহেবুলকেও মারধর করে তারা। এসময় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত কিশোরদের বাইক আটকে থানায় খবর দিলে এরই মধ্যে ৮/১০জনের একটি গ্রুপ রামদা নিয়ে এসে মেহেবুল ও ইপ্তিকে এলোপাতাড়ি কোপায়।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, আরাফাত ও সাইফ নামের দুজন ওই দম্পতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা নিয়ে হামলা করে। এছাড়া আলফাজ, সাইফ, মধু ও শিশির নামের অন্যদেরকে সাইফের ছোট ভাই সজিব ফোন দিয়ে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে ডেকে নিয়ে আসে এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে তারা মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে কোপায়। এসময় তাদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ জড়ো হলে রামদা হাতে আসা কিশোর গ্রুপের সদস্যরা সেক্টরের রাস্তা ধরে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা কিশোর গ্রুপের সদস্য মোবারক ও রবি রায়কে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতিকে প্রকাশ্যে কোপানোর বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি জানায়, জড়িতদের ধরতে আমাদের অভিযান চলছে। আজকেও একজনকে ধরেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমবি