খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের ভেতরে এবং উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামে বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা বা তার কাছাকাছি সময়ে দেশের ভেতরে এবং উজানে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
কেন্দ্রের সতর্কতায় বলা হয়েছে, রবিবার বিকাল ৩টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগ এবং উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই সময়ে পঞ্চগড়ে ১১৮ মিলিমিটার, নীলফামারীর ডালিয়ায় ৮৫, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ৭৫ মিলিমিটার এবং উজানে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে ২৬১, কোচবিহারে ১৯০, জলপাইগুড়িতে ১৭২, শিলিগুড়িতে ১৩৪, অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ৮৯ এবং সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাতে দার্জিলিংয়ে ভূমিধসের ফলে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিধসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম সংযোগকারী সড়ক এবং দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির সংযোগকারী সড়ক।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে ৬৯ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে ৫২.৪৮ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর উজানে দোমহনিতে ১৫৮ সেন্টিমিটার এবং গজলডোবাতে ২২০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। দুপুর ২টায় দোমহনির পানি সমতল ছিল ৮৬.৫০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপরে, এবং গজলডোবা পয়েন্টে পানি সমতল ছিল ১১০.৫৫ মিটার।
ভুটান আবহাওয়া ও পানি বিজ্ঞান সংস্থার বরাত দিয়ে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ‘ওয়াংচু’ নদীর পানি ‘তালা’ বাঁধের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাবে ধরলা ও দুধকুমার নদীর উজানে ভারতে দ্রুত গতিতে পানি বাড়ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা এবং আশপাশের সময়ে রংপুর বিভাগে এবং উজানে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারি (দিবসের মধ্যে ১৪৪ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি (দিবসের মধ্যে ১৮৮ মিলিমিটার) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, তিস্তা নদী বিপৎসীমার ৩০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হতে পারে। তবে পরবর্তীতে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসায় পানি সমতল ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
সতর্কীকরণ অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি ৭ অক্টোবর সকাল ৯টা পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং আগামী ১২ ঘণ্টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।
খবরওয়ালা/শরিফ