সুন্দরবনের একটি পর্যটনকেন্দ্রে অবস্থানরত পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা ও লুটপাটের চেষ্টার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দুই দুষ্কৃতিকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজন সরদার (২৫) ও রতন সরদার (১৪)। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত দুষ্কৃতিকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলের নজরদারি চিত্র বিশ্লেষণ করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় একই দিন বিকেল প্রায় ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ডাকাতির চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজন সরদার ও রতন সরদারকে আটক করা হয়। তারা উভয়েই খুলনা জেলার দাকোপ থানার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা আরও জানান, সোমবার (৪ মে) ভোর প্রায় ৪টার দিকে খুলনার দাকোপ থানার ঢাংমারী খাল সংলগ্ন সুন্দরী ইকো রিসোর্টে অবস্থানরত পর্যটকদের লক্ষ্য করে একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র হামলা ও লুটপাটের চেষ্টা চালায়। এ সময় দুষ্কৃতিকারীরা রিসোর্টের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সাড়া দিলে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিম্নে ঘটনাটির প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| ঘটনার তারিখ ও সময় |
৪ মে, ভোর ৪টা |
| স্থান |
ঢাংমারী খাল সংলগ্ন সুন্দরী ইকো রিসোর্ট |
| অপরাধের ধরন |
হামলা ও লুটপাটের চেষ্টা |
| আটক ব্যক্তির সংখ্যা |
২ জন |
| আটক ব্যক্তির নাম |
রাজন সরদার (২৫), রতন সরদার (১৪) |
| আটক স্থান |
ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকা |
| আইনগত পদক্ষেপ |
দাকোপ থানায় হস্তান্তর |
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।