খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে পৌষ ১৪৩২ | ২৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে সুদূর কানাডায় পাড়ি জমানো হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এখন ফিকে হতে শুরু করেছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘রেডিট’-এ একজন ভারতীয় শিক্ষার্থীর আবেগঘন পোস্ট বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। “আমি কানাডায় এসে আফসোস করছি” শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি প্রবাস জীবনের রূঢ় বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানসিক একাকিত্বের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, পশ্চিমা বিশ্বে থিতু হওয়ার যে স্বপ্ন উন্নয়নশীল দেশের তরুণরা দেখেন, তা আসলে এক বিশাল ‘বিভ্রম’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী দাবি করেন, কানাডার সরকার এবং সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্রেফ ‘অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে নিচের সারির প্রাইভেট কলেজগুলোতে নিম্নমানের শিক্ষার বিনিময়ে আকাশচুম্বী টিউশন ফি আদায় করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “সিলেবাস অত্যন্ত পুরনো এবং শিক্ষকদের পাঠদানে কোনো আন্তরিকতা নেই। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ডিপ্লোমার চাকরির বাজারে কোনো মূল্য নেই; চাকরিদাতারা এই ডিগ্রিগুলোকে পাত্তাই দিতে চায় না।” তিনি বিশেষভাবে কালগারির ‘বো ভ্যালি কলেজ’-এর নাম উল্লেখ করে সেটিকে মানহীন শিক্ষার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বর্তমান সংকট ও বাস্তব পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| সংকটের ক্ষেত্র | বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি ও ভোগান্তি |
|---|---|
| শিক্ষার মান | নিম্নমানের সিলেবাস এবং ডিগ্রি অনুযায়ী কর্মসংস্থানের অভাব। |
| আর্থিক চাপ | আকাশচুম্বী টিউশন ফি এবং উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় (বাড়ি ভাড়া ও নিত্যপণ্য)। |
| কর্মসংস্থান | দক্ষ কাজের অভাব; উবার চালক, গুদাম বা দোকানে কাজ করতে বাধ্য হওয়া। |
| আচরণ ও শোষণ | কম বেতনে অতিরিক্ত খাটুনি এবং প্রতিবাদ করলে কাজ হারানোর ভয়। |
| মানসিক স্বাস্থ্য | তীব্র একাকিত্ব, বিদেশের অপরিচিত পরিবেশে চরম হতাশা ও একাকী ভোগা। |
| সামাজিক পরিবেশ | স্থানীয়দের দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রকৃত বন্ধুত্বের অভাব। |
ওই শিক্ষার্থী তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তথাকথিত ‘কানাডিয়ান অভিজ্ঞতা’ না থাকলে একজন শিক্ষিত তরুণের কপালে উবার চালানো কিংবা গুদামে পণ্য তোলার মতো কায়িক শ্রম ছাড়া আর কিছু জোটে না। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় মেটাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চেয়ে কাজের পেছনেই বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। তিনি বলেন, “এখানে কাজ ও জীবনের মধ্যে কোনো ভারসাম্য নেই। আপনাকে হয় গাধার খাটুনি খাটতে হবে, না হলে না খেয়ে থাকতে হবে।”
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর একাকিত্ব এবং হতাশা কীভাবে একজন শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়, সেই যন্ত্রণার কথাও ফুটে উঠেছে তাঁর লেখনীতে। তিনি জানান, স্থানীয় কানাডিয়ানরা সাধারণত বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও তারা গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলে না এবং অনেক দূরত্ব বজায় রাখে। ফলে হাজার মাইল দূরে থাকা পরিবার-পরিজনহীন শিক্ষার্থীরা নিরবে চোখের জল ফেলে। পরিশেষে, তিনি নিজ দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো মূলত রঙিন স্বপ্নের হাতছানি দিয়ে এক নিদারুণ সত্যকে আড়াল করে। তাই উন্নত জীবনের মোহে দেশ ছাড়ার আগে শতবার ভাবা উচিত।