খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সদ্য পদত্যাগ করা দুই সাবেক উপদেষ্টা—আসিফ মাহমুদ সাজিব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম—সম্প্রতি নানামুখী দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়ে পড়ায় তাদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব অধিকার পরিষদ জানায়, এই দুই সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নগুলোর এখনও সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি। উল্টো অভিযোগগুলোর তীব্রতা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
সংগঠনের সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন বলেন, “দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। যথাযথ তদন্ত ছাড়া তাঁদের নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া মানে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রয়োজনে আমরা দুদক প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করতেও প্রস্তুত আছি।” মামুনের মতে, এমন অভিযোগ উপেক্ষিত হলে শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি নয়, সমগ্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়বে।
তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে মাহফুজ আলমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক দুর্ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের পরিবারের কিছু সদস্যও ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদ বাড়িয়েছেন। স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে একই দিন দুদক কার্যালয়ের সামনে “ছাত্র ও নাগরিক সমাজ” ব্যানারে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, গত ১৭ মাসে এই দুই সাবেক উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোতে যে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব, টেন্ডার জালিয়াতি ও প্রশাসনিক দুর্ব্যবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে—দুদককে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও দুদকের দীর্ঘ নীরবতা প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানটি হয় অক্ষম, নয়তো অনিচ্ছুক। এই নিষ্ক্রিয়তা জনস্বার্থের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তারা। পাশাপাশি বক্তারা ঘোষণা দেন, নৈতিক অবস্থান হারানো এই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এজন্য তারা নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুদক তার স্বাধীনতা হারিয়েছে, ফলে দুর্নীতির মতো গুরুতর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত আর সম্ভব হচ্ছে না। এসব কাঠামোগত দুর্বলতা দূর না করা হলে সুশাসন ও স্বচ্ছতা কখনোই নিশ্চিত হবে না বলে তারা সতর্ক করেন।
সমাবেশে উপস্থিত সংগঠনগুলোর একক দাবি ছিল স্পষ্ট—সরকারকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ, কঠোর ও বিস্তৃত তদন্ত শুরু করতে হবে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।