খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইউরোপে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি হলো ইরাসমাস মুন্ডাস। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই বৃত্তির জন্য আবেদন করেন, তবে নির্বাচিত হন হাতে গোনা কয়েকজন। ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে এই সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের আট তরুণ প্রকৌশলী, যারা একসঙ্গে ফ্রান্সের সন্ত্রাল নঁত (Centrale Nantes) বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। দেশে এদের পূর্ব শিক্ষা ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কিন্তু ফ্রান্সে মিলিত হয়ে একটি অভিন্ন একাডেমিক যাত্রা শুরু করেছেন।
তরুণেরা যেসব প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন, সেগুলো মূলত বৈদ্যুতিক ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের অগ্রণী গবেষণায় নিবদ্ধ।
| শিক্ষার্থী | দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয় | ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম | গবেষণার ফোকাস |
|---|---|---|---|
| মুশফিকুর রহমান | এআইইউবি (AIUB) | Joint Master in Electric Vehicle Propulsion & Control | বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রপালশন ও কন্ট্রোল অ্যালগরিদম |
| আবদুল আজিজ | এআইইউবি | Joint Master in Electric Vehicle Propulsion & Control | ভবিষ্যৎ পরিবহন প্রযুক্তি |
| খন্দকার মাইনুল ইসলাম | এআইইউবি | Joint Master in Dynamics of Renewable-Based Power Systems | নবায়নযোগ্য শক্তি ভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা |
| মো. মনির উদ্দিন | আইইউটি | Joint Master Program | বৈদ্যুতিক ও নবায়নযোগ্য শক্তি |
| সানজানা তাবাসসুম | আইইউটি | Joint Master Program | শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি |
| মো. সাফি | ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি | Joint Master Program | বৈদ্যুতিক যানবাহন ও শক্তি ব্যবস্থাপনা |
| মো. আমিনুল ইসলাম | গ্রিন ইউনিভার্সিটি | Joint Master Program | শক্তি প্রযুক্তি ও রিনিউয়েবল সিস্টেম |
| মো. শাহরিয়ার রহমান | হাবিপ্রবি | Joint Master Program | শক্তি ও পরিবহন প্রযুক্তি |
মুশফিকুর রহমান জানান, “ইরাসমাস মুন্ডাস বৃত্তি শুধু ভালো সিজিপিএ নয়, বরং নিজের একাডেমিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে বৈশ্বিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করতে পারার প্রমাণ।”
সন্ত্রাল নঁত বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রান্সের শীর্ষ পাঁচটি গ্রঁদ একোল-এর মধ্যে একটি। এখানে গবেষণার মান অত্যন্ত উন্নত এবং ভর্তি প্রক্রিয়া কঠিন। খন্দকার মাইনুল ইসলাম বলেন, “গ্রঁদ একোল বলতে বোঝায় মহান বিদ্যাপীঠ, যেখানে উচ্চ মানের প্রযুক্তিগত গবেষণা হয়।”
অধিকাংশ দিনই ক্লাস, ল্যাব, লাইব্রেরি ও প্রজেক্ট মিটিংয়ে তারা একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন। সানজানা তাবাসসুম বলেন, “নতুন দেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। একে অপরের পাশে থাকা মানসিক শক্তি দেয়।”
ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশ থেকে অনেকটাই গবেষণামুখী ও বিশ্লেষণধর্মী। শিক্ষার্থীরা শুধু লেকচার শোনেন না, প্রশ্ন করেন, যুক্তি দেন এবং দলগতভাবে সমাধান বের করতে শিখেন। মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজে থেকে ভাবার দক্ষতা অর্জন।”
প্রাথমিকভাবে ভাষা ও সাংস্কৃতিক বাধা ছিল, তবে সময়ের সঙ্গে তা অতিক্রম করেছেন। সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাদার মনোভাব তাদের নতুন জীবনধারায় অভ্যস্ত করেছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটি এবং আন্তর্জাতিক সহপাঠীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। খন্দকার মাইনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মানুষ বাংলাদেশকে চিনবে। তাই সর্বদা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।”
এই ইউরোপিয়ান জয়েন্ট মাস্টার্স প্রোগ্রাম বিভিন্ন দেশে পড়াশোনার সুযোগ দেয়। আগামী সেমিস্টারে কেউ জার্মানি, কেউ স্পেন, কেউবা ইতালি বা রোমে গবেষণা চালাবেন। এই অভিজ্ঞতা তাদের শুধু একটি ডিগ্রি দেয় না, বরং বৈশ্বিক মানসিকতা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিল্প খাতে দক্ষতা তৈরি করে।