খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুক্রবার দেশের মূল সুদের হার ১৫.৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা এই বছরের মধ্যে ছয়বারের মতো হ্রাস। এই সিদ্ধান্ত মূলত অর্থনীতির ধীরগতিকে প্রতিফলিত করছে, যেখানে উচ্চ সুদের চাপ ব্যবসা ও বিনিয়োগকে ব্যাহত করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতির সাময়িক বৃদ্ধি থাকলেও তা অস্থায়ী হিসেবে বিবেচনা করছে।
ব্লুমবার্গের জরিপ অনুসারে, ৮ জন অর্থনীতিবিদ মধ্যে মাত্র ২ জন এই হারের হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন; বাকিরা মূল হার অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা করছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবে, কারণ উচ্চ সুদের হার গত বছর থেকে উদ্যোগ ও ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়িয়ে রেখেছিল। ব্যাংকটি জানিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেলেও তা ২০২৬ সালের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে।
| তারিখ | সুদের হার (%) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২০২৫ সালের জানু | १७.৫ | অর্থনৈতিক চাপের কারণে হ্রাস শুরু |
| ২০২৫ সালের মার্চ | ১৭.০ | ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য স্বস্তি |
| ২০২৫ সালের মে | ১৬.৫ | মুদ্রাস্ফীতি সাময়িক বৃদ্ধি |
| ২০২৫ সালের জুলাই | ১৬.০ | ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হ্রাস পরিকল্পনা |
| ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর | ১৬.০ | স্থিতিশীল হার ধরে রাখা |
| ২০২৫ সালের নভেম্বর | ১৬.০ | মুদ্রানীতি পুনর্মূল্যায়ন |
| ২০২৬ সালের জানু | ১৫.৫ | সাম্প্রতিক হ্রাস, মোট ছয়বারের হ্রাস |
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল সুদের হ্রাসে ঋণ গ্রহণ সহজ হবে এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে। তবে, এই সিদ্ধান্ত মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার অর্থনীতি গত কয়েক বছর ধরে তেল ও গ্যাসের আয় কমে যাওয়া, বৈশ্বিক অবরোধ এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ সংকটের কারণে ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, সুদের হ্রাস খুচরা খরচ ও শিল্প উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রানীতি এখনও নমনীয় থাকলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। অর্থনীতির ধীরগতি এবং উচ্চ সুদের হার মিলিতভাবে ব্যবসায়ীদের উপর চাপ তৈরি করছে, এবং এই হ্রাস সেই চাপ কিছুটা কমাবে।
রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ঋণ ও বিনিয়োগে। দেশটির অর্থনৈতিক নীতি এখন উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব আনার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
এই পদক্ষেপে বোঝা যায় যে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতির স্বাস্থ্যের প্রতি বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতি সাময়িক হলেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে।