খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
বগুড়ার শেরপুরে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ব্যাডমিন্টন খেলার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক মাদরাসাছাত্রকে অপহরণ করা হয় এবং তাকে বিবস্ত্র করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা জহুরুল ইসলাম বুধবার (১১ মার্চ) শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিপীড়নের শিকার কিশোর মাহমুদুল হাসান (১৩) স্থানীয় শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের হামছায়াপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে মাহমুদুল হাসান গত ৬ মার্চ দুপুরে খেলার সময় বিরোধের জেরে শহরের তালতলা এলাকায় কয়েকজন যুবকের হাতে আটক হয়। পরে তাকে খন্দকারটোলা এলাকার শামছুল হক মুন্সির বাড়িতে নিয়ে মারধর করা হয়। সেখানে এক পর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয় এবং তার মাথার চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের কারণে কিশোরটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শেরপুর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মোতালেব আলভীকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার বেংনাই গ্রামে। বর্তমানে সে শেরপুর উপজেলার খন্দকারটোলা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে থাকাকালীন অনলাইনে নতুন কাপড়ের ব্যবসা করতেন। গ্রেপ্তার মোতালেব আলভীকে বগুড়ার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্য পাঁচজন পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| ভুক্তভোগী | মাহমুদুল হাসান (১৩) |
| বিদ্যালয় | শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসা |
| শ্রেণি | সপ্তম |
| ঘটনা স্থান | শেরপুর শহরের তালতলা ও খন্দকারটোলা এলাকা |
| ঘটনার তারিখ | ৬ মার্চ ২০২৬ |
| মামলা দায়ের | ১১ মার্চ ২০২৬ |
| এজাহারভুক্ত আসামি | ৬ জন |
| গ্রেপ্তারকৃত | মোতালেব আলভী (১৯) |
| গ্রেপ্তারের স্থান | শেরপুর, আত্মীয়ের বাড়ি |
| আসামির মূল ঠিকানা | রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বেংনাই গ্রাম |
| বিচার প্রক্রিয়া | বগুড়া জেলা কারাগারে হস্তান্তর |
পুলিশ বলেছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মামলার এই ঘটনা সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক সুস্থতার গুরুত্বকে নতুন করে প্রমাণ করেছে।