নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: 17শে বৈশাখ ১৪৩২ | ৩০ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এপ্রিল মাসজুড়ে অপহরণ-ধর্ষণ-সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে নবীনগর উপজেলার বিটঘর ও নাটঘড় বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বলেছেন নাটঘর ও বিটঘরে বিএনপি’র অফিস আছে এইটা আমার জানা নেই।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল জিনোদপুর ইউনিয়নে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। শুরুতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সাহস করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করলেও শুরু হয় হুমকি-ধমকি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ,অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাকে মামলা তুলে নিতে দেওয়া হয় খুন ও গুমের হুমকি। এরপর ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাকে হেয় করার অপচেষ্টা চলে। পরিস্থিতির চাপে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ফিরতে পারছেন না নিজ ঘরে।
সম্প্রতি ৭ এপ্রিল রাতে উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনা। সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মালুর ১৯ বছর বয়সী ছেলে রিফাত মিয়াকে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি নিজেদের ‘ডিজিএফআই সদস্য’ পরিচয়ে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায়—তা-ও পুলিশের উপস্থিতিতে। পরদিন যৌথ বাহিনীর অভিযানে অপহৃত রিফাতকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অপহরণের সাথে জড়িত আরো দুইজন এখনো ধরা পড়েনি। এ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
গত ২৯ এপ্রিল সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা ও বাড়াইল গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রাণ হারান আজিজ মিয়া (৫২)। আহত হন অন্তত ৩০ জন। এর সূত্রপাত ঘটে ৩ এপ্রিল, যখন সলিমগঞ্জ বাজারে বাড্ডা গ্রামের যুবক ইসাক মিয়ার সঙ্গে এক দোকানদারের টাকা ভাঙতি নিয়ে বিবাদ বাধে। ওই ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় বাড্ডা গ্রামের লোকজন বাড়াইল গ্রামের ছোট্ট মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যাতে প্রথম দফায় ১০ জন আহত হন। পরে ২৯ এপ্রিল ফের সংঘর্ষে জড়ালে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আজিজ মিয়াকে। ঘটনাস্থলে একাধিক ককটেল বিস্ফোর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও ঘটে। এলাকায় এখনো উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে । যদিও এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
এপ্রিল মাসজুড়ে এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছাড়াও নবীনগর রাধিকা হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যে সড়কটি গিয়েছে সেখানে বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েকজনের প্রাণ হানির ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে এই সড়কটি যেন মৃত্যুকুপে পরিনত হয়েছে । নবীনগর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বিষয় নিয়ে সময় থাকতেই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এই অপরাধপ্রবণতা রোধ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নবীনগরের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, নাটঘর ও বিটঘরে বিএনপি’র অফিস আছে এইটা আমার জানা নেই। তবে নবীনগরে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নবীনগরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমি আশা করি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করেছে। সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সবসময় সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ অনেক কিছুই বলতে পারে কিন্তু বাস্তবে আমাদের কার্যক্রম সততা ও নিষ্ঠার সাথে চালিয়ে যাচ্ছি।
খবরওয়ালা/এমইউ