খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৭ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বড়দিনের আগের রাতে লন্ডনের এক তরুণ নিজের চুরি যাওয়া আইফোনের লোকেশন ট্র্যাক করতে করতে পৌঁছে গেলেন হিথরো বিমানবন্দরের কাছে এক গুদামের সামনে। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল গুদামটির ভেতরে তিনি যা দেখলেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য—তাঁর ফোনটি ছিল এক বাক্সে, আর সেই বাক্সে আরও ৮৯৪টি ফোন!
সেখান থেকেই শুরু হয় যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন পাচারবিরোধী অভিযান। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, এই এক বছরের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার চুরি যাওয়া ফোন চীনে পাচার করা হয়েছিল। ফোন চুরি রোধে এটি যুক্তরাজ্যের ‘সবচেয়ে বড় অভিযান’ বলে দাবি করেছে তারা।
গুদামে ফোনগুলোর অবস্থান জানার পর নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালায়। দেখা যায়, প্রতিটি ফোনের গায়ে ট্র্যাকিং সিগন্যাল যেন ধরা না পড়ে, সেজন্য ফয়েলে মুড়ে রাখা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া যায় কয়েকজন ব্যক্তির পরিচয়, আর সেখান থেকেই খুলতে থাকে এক আন্তর্জাতিক চক্রের জাল।
পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রটি লন্ডনে চুরি হওয়া ফোনের প্রায় অর্ধেক পাচারের জন্য দায়ী হতে পারে। লন্ডন ও হার্টফোর্ডশায়ারের ২৮টি বাড়িতে একযোগে অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধার হয় দুই হাজারের বেশি চুরি যাওয়া ফোন।
অভিযানের সময় পুলিশের বডিক্যামের ফুটেজে দেখা যায়, কর্মকর্তারা রাস্তার মাঝখানে নাটকীয়ভাবে একটি গাড়ি থামাচ্ছেন। কিছু কর্মকর্তার হাতে টেজার বন্দুক। গাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া গেল ফয়েলে মোড়ানো কয়েক ডজন ফোন। পরে আফগান বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি ও এক ভারতীয় নাগরিককে অভিযুক্ত করা হয় চুরি করা মাল লুকানো ও পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে।
গোয়েন্দা পরিদর্শক মার্ক গ্যাভিন বলেন, ‘প্রথম ফোন চালানটি আটক হওয়ার পর আমরা বুঝতে পারি, এর পেছনে রয়েছে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক চক্র। আমাদের ধারণা, লন্ডনে চুরি হওয়া মোট ফোনের প্রায় ৪০ শতাংশ বিদেশে পাচারের জন্য এই চক্রই দায়ী।’
খবরওয়ালা/এন