রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভোর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চাকরিজীবী, কৃষক ও যানবাহন চালকদের। এতে কর্মক্ষেত্রে দেরি, আর্থিক ক্ষতি এবং দৈনন্দিন জীবনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থার মাঠকর্মী ফরিদা আক্তার প্রতিদিনের মতো সকাল আটটায় অফিসে উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করার কথা থাকলেও জ্বালানি না থাকায় বাধ্য হয়ে সকাল সাতটা থেকেই পাম্পে লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তেল না পাওয়ায় অফিসে উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি জানান, দেরিতে গেলে কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়, যা তাঁর পেশাগত জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
একই পরিস্থিতির শিকার পূজা সেন নামের আরেক মাঠকর্মী। তাঁর কথায়, জ্বালানি না থাকলে মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আগে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হননি, কিন্তু এখন প্রায় প্রতিদিনই একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সংসারের দায়িত্ব সামলে ভোরে পাম্পে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবদুল খালেকও একই ভোগান্তির কথা জানান। রাতেই খবর পেয়ে ভোরে পাম্পে এসে দেখেন, তেল সরবরাহ বন্ধ। পরে বারবার সময় পরিবর্তনের কারণে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, অফিসে দেরি হলে বেতন কাটার আশঙ্কা থাকে। প্রায় আট কিলোমিটার দূর থেকে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সময়মতো তেল না পাওয়ায় তিনি চরম উদ্বেগে পড়েছেন। তাঁর মতে, এভাবে চলতে থাকলে কর্মজীবনে স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।
কৃষি খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। তুষার হোসেন নামের এক কৃষক জানান, তিন দিন ধরে সেচের জন্য জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সময়মতো তেল না পেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে।
ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, আগের রাতে সরবরাহকৃত পেট্রলের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বাকি অংশ ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিতরণ করা হয় এবং তা খুব অল্প সময়েই শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিচে পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
বর্তমান অবস্থা |
| লাইনে অপেক্ষার সময় |
২–৪ ঘণ্টা বা তার বেশি |
| জ্বালানি সরবরাহ |
সীমিত ও অনিয়মিত |
| সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত |
চাকরিজীবী, কৃষক, মোটরসাইকেল চালক |
| সম্ভাব্য প্রভাব |
অফিসে দেরি, বেতন কর্তন, ফসল ক্ষতি |
| সমাধানের অবস্থা |
কর্তৃপক্ষের তদারকিতে সীমিত বিতরণ |
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও সমন্বয় জরুরি। নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট আরও গভীর হয়ে জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।