খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করার পেছনে দায়ভার কার?
ঘটনাস্থলটি একটি জনবহুল মডেল টাউন, যেখানে স্কুলটির অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এটি মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনের পাশে এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের খুব কাছেই অবস্থিত, যা নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে এই ক্যাম্পাসকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
দুর্ঘটনার পর এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা আমাদের শিক্ষকদের অনেক ভালোবাসি, তারা আমাদের মানুষ করেছেন। কিন্তু এই জায়গায় স্কুল হওয়ার কথা ছিল না। স্কুলটি স্থাপন করতে গেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাধা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই জায়গায় স্কুল হলে কমার্শিয়াল রুট বাধাগ্রস্ত হবে। তাই তিনি এটি অধিগ্রহণ করে র্যাবকে দিতে চেয়েছিলেন। এখন এত বড় ঘটনার দায় নেবে কে?”
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী স্কুলটি এখান থেকে সরিয়ে অন্য কোন স্কুল উপযোগী জায়গায় নিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই জায়গাটি যথাযথ মূল্যে অধিগ্রহণ করে র্যাবকে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মালিক-পক্ষ ও কিছু শিক্ষক এই প্রস্তাব মানেননি। বরং তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে আন্দোলনে নামান। আন্দোলনের চাপে সরকার পিছু হটে, এবং স্কুলটি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাতেই স্থায়ীভাবে পরিচালিত হতে থাকে।
আজকের দুর্ঘটনার পর দেখা গেছে, জনবহুল এলাকার কারণে আহতদের উদ্ধার কার্যক্রমে ভয়াবহ বাধা সৃষ্টি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় এমন আরও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো দুর্যোগের সময় মৃত্যু-কূপে পরিণত হতে পারে। উল্লেখ্য যে শুধুমাত্র উত্তরা এলাকায় এই স্কুলটির ৬০ টির অধিক ক্যাম্পাস রয়েছে।
বিগত সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে একাধিকার এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল সরানোর নির্দেশনা থাকলেও, অজানা কারণে এবং নানা প্রভাবশালী মহলের চাপে অধিকাংশ স্কুলই স্থানান্তরিত হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—এই বিশাল ঝুঁকি ও প্রাণহানির দায় আসলে কে নেবে?