খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নরসিংদীর মাধবদীতে রেদোয়ান হাসান রাতুল নামের এক যুবককে আটকের পর মারধর করে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা সারোয়ার তুষারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি চাঁদা আদায়ের একটি ভিডিও ও তুষারের সঙ্গে জুলাই পদযাত্রা অনুষ্ঠানের প্রচারণা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় তুষারের সঙ্গে চাঁদাবাজদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
জানা গেছে, রাতুল নরসিংদী সদর উপজেলার পাইকারচর এলাকার মৃত মুক্তার হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে মাধবদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বর্তমানে এনসিপি নেতা শাকিল, মারুফ, আয়ান, রিফাত, মাহফুজসহ কয়েকজন মিলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি শুরু করে। যাদের কোনো পদ-পদবি নেই, শুধু ছবি আছে বা দলীয় পরিচিতি রয়েছে, এমন ব্যক্তিদেরও আটকে চাঁদা আদায় করছে তারা।
গত রবিবার দুপুরে মাধবদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে রাতুলকে মারধর করা হয়। পরে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে তার চাচা সিরাজ উদ্দিনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। চাঁদার টাকা নেবার পর রাতুলকে মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে, অভিযুক্ত শাকিল ও মারুফকে গত মাসে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার প্রচারণায় সারোয়ার তুষারের সঙ্গে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। সেই সময়কার একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে শাকিল ও মারুফের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মাধবদী গেলে অনেকেই যোগাযোগ করে, সবাইকে বাইনেমে চিনি না বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার সুযোগ থাকে না। শুনেছি তারা বলছে, মাহফুজ নামে একজন তাদের ফাঁসিয়েছে। এখন তাদের তো কোনো পদ-পদবি নেই। ব্যবস্থা কী নেব?’
মাধবদী থানার ওসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া রাতুল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার ৮ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্ররাই আমাদের ফোন দিয়েছিল। আমরা গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। আগে-পরে কী হয়েছে, তা জানা নেই। মৌখিকভাবে চাঁদাবাজির কথা শুনেছি।’
খবরওয়ালা/এন