খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৩ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংসদ সদস্যদের (এমপি) নিজ এলাকায় সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, যা সাধারণভাবে ‘এমপি প্রকল্প’ নামে পরিচিত। বর্তমানে দেশে সংসদ সদস্য নেই, এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগের বকেয়া অর্থ গত অর্থবছরে আগাম প্রদান করা হয়েছিল। তবে শেষ হওয়ার পথে থাকা এমপি প্রকল্পে হঠাৎ ৩৯ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দেশে এমপি না থাকলেও এত বড় ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, এটি অনুমোদিত হয়েছিল ২০২২ সালে, এবং জুলাই মাস থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পের প্রাথমিক অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১,০৮২ কোটি টাকা। এখন নতুন প্রস্তাবে ৪১৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে মোট ব্যয় করা হয়েছে ১,৫০০ কোটি টাকা, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় ৩৮.৬৪ শতাংশ বেশি।
প্রকল্পটি মূলত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে স্থানীয় সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এমপিরা নিজের মতো স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে কাজ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয়েছিল—যেসব কাজ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে এবং যেসব খাতের দরপত্র হয়নি সেগুলো বাতিল করতে হবে। তবে বাস্তবে এটি না করে উল্টো ব্যয় ও সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত এক বছর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যা আগের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।
আইএমডির সম্প্রতি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে বরাদ্দ বেশি ছিল, কিন্তু পরে যথেষ্ট বরাদ্দ না থাকায় অগ্রগতি কম হয়েছে। জুন পর্যন্ত ৭০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, অথচ আগামী দেড় বছরে ৮০০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পের চলমান কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত ছিল। তাহলে প্রকল্পটি ৭০০ কোটি টাকাতেই শেষ হতো। হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। বন্ধ হওয়ার পথে থাকা প্রকল্পে এত বড় ব্যয় বাড়ানোর কারণ প্রশ্নবিদ্ধ।”
প্রকল্পের সাবেক পরিচালক নাজমুল করিম জানান, “স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সরকারের নির্দেশনায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”
বর্তমানে প্রকল্পের কাজ ৬৪ শতাংশ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন কারণে কিছু খাতের ব্যয় ও পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো, কিছু প্যাকেজ বাতিল বা সংযোজনের জন্য সংশোধন প্রস্তাব এসেছে। এলজিইডি জানিয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধির কারণ—ডিপিপি অনুযায়ী এডিপিতে বরাদ্দ যথাযথভাবে না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হয়নি, তাই প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো প্রয়োজন।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নতুন প্রস্তাবনায় চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং মেহেরপুর জেলায় সর্বনিম্ন ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এর আগে পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “এই প্রকল্পের আওতায় আর কোনো নতুন স্কিম অনুমোদন করা হবে না।”
খবরওয়ালা/এমএজেড