খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা মোনেটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (এমএএস) বীমা কোম্পানিগুলোর বেসরকারি সম্পদে বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে ঘিরে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বাজার অস্থিরতা এসব বিনিয়োগের অন্তর্নিহিত দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে—বিশেষ করে তারল্য সংকট, সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ এবং চাপের সময়ে দায় পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গত ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত লাইফ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক মধ্যাহ্নভোজে এমএএস-এর সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্কাস লিম এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তিনি জানান, বর্তমানে অনেক বীমা কোম্পানি সরাসরি প্রাইভেট ইকুইটি ও প্রাইভেট ক্রেডিটে বিনিয়োগ করছে। পাশাপাশি, অ্যাসেট-ইনটেনসিভ রিইনস্যুরেন্স (এআইআর) ব্যবস্থার মাধ্যমেও পরোক্ষভাবে এসব সম্পদে সম্পৃক্ততা বাড়ছে।
এআইআর এমন একটি কাঠামো, যার মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলো তাদের ঝুঁকির একটি অংশ পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যালান্স শিটকে আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারে এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগসমৃদ্ধ পলিসির জন্য বিশেষায়িত বিনিয়োগ দক্ষতা কাজে লাগাতে সক্ষম হয়। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইআর ব্যবস্থায় জামানতের গুণগত মান (collateral quality), বাজারে তারল্যের প্রাপ্যতা এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে পুনরায় দায় গ্রহণের সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ, যদি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, তখন বীমা কোম্পানিগুলোকে পুনরায় ঝুঁকি নিজেদের উপর নিতে হলে পর্যাপ্ত সম্পদ ও প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
নিচের সারণিতে বেসরকারি সম্পদে বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রধান ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হলো:
| ঝুঁকির ধরন | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| তারল্য ঝুঁকি | প্রয়োজনে দ্রুত সম্পদ বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহে অসুবিধা |
| মূল্যায়ন ঝুঁকি | সম্পদের প্রকৃত বাজারমূল্য নির্ধারণে অনিশ্চয়তা |
| জামানত ঝুঁকি | বিনিয়োগের বিপরীতে রাখা সম্পদের গুণগত মান দুর্বল হওয়া |
| পুনরুদ্ধার দায় ঝুঁকি | সংকটকালে পুনরায় দায় গ্রহণে অক্ষমতা |
| বাজার অস্থিরতা | বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া |
মার্কাস লিম জোর দিয়ে বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ও কঠোর স্ট্রেস টেস্টিং, সম্ভাব্য ঝুঁকির পূর্বানুমান এবং পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, অধিক মুনাফার আশায় বিনিয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে গিয়ে যেন গ্রাহকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
এমএএস এ বছরই এ বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অপারেশনাল ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। এসব প্রস্তাবিত নির্দেশিকার ওপর পরামর্শ গ্রহণ প্রক্রিয়া আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
লিম উল্লেখ করেন, গত বছরে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, বাহ্যিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা ভেন্ডররা বীমা খাতের জন্য একটি দুর্বল কড়ি হতে পারে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সাইবার ঝুঁকি বা সেবার ব্যাঘাত গ্রাহকের আস্থা নষ্ট করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের জন্য ক্ষতিকর।
সার্বিকভাবে, বীমা খাতে বেসরকারি সম্পদে বিনিয়োগ বাড়লেও তা যেন সুষম ও নিয়ন্ত্রিত হয়—এমনটাই চায় এমএএস। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি থাকলে এই খাত দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে।