খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের আমদানি চলতি মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও খুচরা বাজারে এখনো কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফেরেনি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে সরবরাহব্যবস্থায় যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তবে সেই চালানগুলোর একটি বড় অংশ এখনো বন্দরে পৌঁছায়নি। ফলে আমদানি বাড়লেও বাজারে দামের ভারসাম্য পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
খুচরা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হলেও ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তা ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানুয়ারিতে তীব্র সংকটের সময় একই সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় পৌঁছায়। আমদানিকারকেরা নির্ধারিত দামে সরবরাহ করলেও খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এলপিজি অপারেটরদের সংগঠনের নেতারা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানির পরিমাণ গত মাসের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৯১ হাজার টন, যেখানে আগের মাসের একই সময়ে ছিল ৬৩ হাজার টন। সীতাকুণ্ডের বেসরকারি জেটি মিলিয়ে মাসে আরও প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টন আমদানি হয়। দেশের দৈনিক চাহিদা গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার টন।
| বিবরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| ফেব্রুয়ারি (২১ তারিখ পর্যন্ত) আমদানি | ৯১ হাজার টন |
| জানুয়ারি (একই সময়) আমদানি | ৬৩ হাজার টন |
| বৃদ্ধি | প্রায় ৪৪ শতাংশ |
| দৈনিক চাহিদা | প্রায় ৫ হাজার টন |
| গত অর্থবছরের মোট আমদানি | ১৭ লাখ ৫৪ হাজার টন |
খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত নভেম্বরে আমদানি প্রায় ৪৪ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও কাঙ্ক্ষিত অনুমোদন না পাওয়ায় কয়েকটি বড় কোম্পানি আমদানি বাড়াতে পারেনি। এতে জানুয়ারিতে তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং চাহিদা বেড়ে যায়। পরে সংকট মোকাবিলায় আমদানি বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বর্তমানে দেশে ২৮টি কোম্পানি এই খাতে সক্রিয়, যার মধ্যে ২৩টির আমদানির অনুমোদন রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে সক্রিয়ভাবে আমদানি করছে ১৬টি কোম্পানি। এর মধ্যে ৯টি কোম্পানি মোট আমদানির প্রায় ৯২ শতাংশ সরবরাহ করেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি বন্ধ থাকলেও বড় কোম্পানিগুলো বিকল্প উৎস—ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ—থেকে গ্যাস আনছে।
চট্টগ্রাম, মোংলা ও সীতাকুণ্ড বন্দরের পথে বর্তমানে একাধিক ট্যাংকার রয়েছে। বড় একটি শিল্পগোষ্ঠীর পাঁচটি জাহাজে ৫৭ হাজার টন গ্যাস দেশে আসছে, যার একটি অংশ ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে এবং বাকিটা মার্চের প্রথমার্ধে পৌঁছাবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধারাবাহিক আমদানি অব্যাহত থাকলে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং বাজারে স্থিতি ফিরবে। তবে খুচরা পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও মূল্যনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হলে ভোক্তাদের পূর্ণ স্বস্তি পাওয়া কঠিন হবে।