খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে গোল কম খাওয়া। দেশীয় লিগে গোলরক্ষক রুপনা চাকমার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস জোগালেও আন্তর্জাতিক মঞ্চের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সদ্য সমাপ্ত নারী ফুটবল লিগে ১০ ম্যাচের ৯টিতে ক্লিনশিট রাখা রাজশাহী স্টারসের এই নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দেখেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্যপট। শেষ চারটি প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায়নি, বরং হজম করেছে ১১ গোল—যা রক্ষণভাগের দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।
১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হতে যাওয়া এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের গোল করার ধারাবাহিকতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের শিবিরে। ইতিহাস বলছে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার জন্য এই টুর্নামেন্ট প্রায়শই গোল–উৎসবের মঞ্চ।
| দল | ম্যাচ | গোল করেছে | গোল হজম | উল্লেখযোগ্য সাফল্য |
|---|---|---|---|---|
| চীন | ৭৫ | ৩৬৭ | তথ্যভিত্তিক কম | ৯ বার চ্যাম্পিয়ন |
| উত্তর কোরিয়া | ৫৩ | ২৪১ | — | ৩ বার চ্যাম্পিয়ন |
| উজবেকিস্তান | ১৬ | ১৫ | ৬৫ | ৫ আসরে অংশগ্রহণ |
| বাংলাদেশ | অভিষেক | — | — | প্রথমবার অংশগ্রহণ |
২০২২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরে চীন গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে ১১ গোল করে একটিও হজম করেনি। উত্তর কোরিয়া গত আসরে না খেললেও তাদের সামগ্রিক রেকর্ড অত্যন্ত সমৃদ্ধ। অন্যদিকে উজবেকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল হলেও এবারের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
বাংলাদেশ নারী দল আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ২৪ দেশের বিপক্ষে ৭৫টি ম্যাচ খেলেছে। গোল করেছে ১৪৯টি এবং কাকতালীয়ভাবে হজমও করেছে ঠিক ১৪৯টি গোল। তবে র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান পার্থক্যটা স্পষ্ট করে দেয়।
| দল | র্যাঙ্কিং | বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে |
|---|---|---|
| উত্তর কোরিয়া | ৯ | ১০৩ ধাপ |
| চীন | ১৭ | ৯৫ ধাপ |
| উজবেকিস্তান | ৪৯ | ৬৩ ধাপ |
| বাংলাদেশ | ১১২ | — |
৩ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে। ৬ মার্চ তিনবারের শিরোপাজয়ী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে দল। ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ।
দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম স্বীকার করেছেন, চীন বা উত্তর কোরিয়ার জাতীয় দলের বিপক্ষে আগে না খেলাটা একটি সীমাবদ্ধতা। কোচ পিটার বাটলারও মানছেন, রক্ষণভাগ আরও গোছানো প্রয়োজন। সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে হাইলাইন ডিফেন্সের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এশিয়ার শীর্ষ আক্রমণভাগের বিপক্ষে একই কৌশল কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা ছিল। বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। থাইল্যান্ডে দুটি প্রীতি ম্যাচ ও ঢাকায় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলেও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভাব রয়ে গেছে। দেশীয় লিগে ৫৫ ম্যাচে ৪১৫ গোল হওয়া একপেশে প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি দেয় না—এ কথা মানছেন সংশ্লিষ্টরাও।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য স্পষ্ট—চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং যত কম সম্ভব গোল হজম করা। ফলাফল যাই হোক, এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার মঞ্চ হয়ে থাকবে।