খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের একটি নির্বাচনী সমাবেশে নিজেকে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন হিসেবে পরিচয় দিয়ে এক নারী বক্তব্য প্রদান করেন। শবনম খাদিজা নামের ওই নারী সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তবে সমাবেশের পর শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে ওই নারীর পরিচয় নিয়ে তীব্র আপত্তি ও অস্বীকৃতি জানানো হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে এই বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের এক পর্যায়ে শবনম খাদিজা নামের ওই নারী মঞ্চে উঠে নিজেকে শরীফ ওসমান হাদির বোন হিসেবে পরিচয় দেন এবং আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি উপস্থিত জনগণের কাছে নাহিদ ইসলামের পক্ষে ভোট চান। শহীদ পরিবারের সদস্য পরিচয়ে ভোট চাওয়ায় বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও সহানুভূতির সৃষ্টি করে।
সমাবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি ওই নারীকে ‘ভুয়া’ ও ‘প্রতারক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শরীফ ওসমান হাদির তিন বোনের মধ্যে কেউই ওই নারী নন।
একনজরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অবস্থান:
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ | পদবি/পরিচয় | মূল বক্তব্য ও অবস্থান |
| শবনম খাদিজা | বক্তা (বিতর্কিত পরিচয়) | নিজেকে ওসমান হাদির বোন দাবি করে নাহিদের পক্ষে ভোট চান। |
| রাবেয়া ইসলাম শম্পা | শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী | ওই নারীকে ভুয়া দাবি করেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্বামীর নাম ব্যবহারের প্রতিবাদ জানান। |
| আবদুল্লাহ আল জাবের | সদস্য সচিব, ইনকিলাব মঞ্চ | পরিবারের তথ্যের বরাতে ওই নারীকে মিথ্যা পরিচয় দানকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। |
| ডা. শফিকুর রহমান | আমির, জামায়াতে ইসলামী | সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন, তবে পরিচয় বিভ্রান্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। |
শহীদ পত্নী রাবেয়া ইসলাম শম্পা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন যে, তাঁর স্বামী জীবিত থাকাকালীন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কোনো রাজনৈতিক দল যাতে নিজস্ব সংকীর্ণ স্বার্থে ওসমান হাদির নাম বা তাঁর পরিবারের মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার না করে, সেজন্য তিনি কড়া বার্তা দেন। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, ওসমান হাদির আদর্শ বা চেতনা কোনো দল যদি ধারণ করে বা প্রচার করে, তবে তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ফায়দা হাসিলের জন্য পরিবারের মিথ্যা সদস্য সাজিয়ে মঞ্চে তোলাকে তিনি নীতিভ্রষ্ট কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শহীদদের পবিত্রতা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনা তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, শবনম খাদিজা নামের ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় কী কিংবা তিনি কোনো বিশেষ মহলের প্ররোচনায় এমন দাবি করেছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শহীদদের নাম ব্যবহার করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা নতুন কিছু নয়, তবে সরাসরি পরিবারের সদস্য দাবি করা এবং পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।