খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫
২০০৯ সালে শুরু হওয়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘ সময়ের কাজ শেষে আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর থেকে এখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। যদিও টার্মিনাল ভবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো বাকি, কর্তৃপক্ষ বলছে—নির্ধারিত সময়েই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার অ্যারাইভাল ও ডিপারচার লাউঞ্জ, ডিপারচার কনভেয়ার বেল্ট এবং ইমিগ্রেশন কাউন্টারের কাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো এগুলো শেষ করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া এয়ারলাইন্সগুলোর প্রস্তুতির বিষয়ও বিবেচনায় আছে। তবে রানওয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত।
বেবিচকের দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে। ২ অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোন গন্তব্যে ও কী ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করবে—তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
বেবিচক সদস্য (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানিয়েছেন, “২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর আগে আইকাওকে অবহিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করব।”
আইকাওর গাইডলাইন মেনে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গত ৭ আগস্ট আইকাওকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এটি দেশের বিমান ও পর্যটন খাতের জন্য বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কক্সবাজার ও আশপাশের অঞ্চলে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহনসহ নানা খাতে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, করপোরেট ইভেন্ট ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও সহজ হবে।
২০১৫ সালে বিমানবন্দরের উন্নয়নে নতুন ধাপ যোগ হয়। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় কক্সবাজারকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। পর্যটনের পাশাপাশি যেকোনো ফ্লাইটের রি-ফুয়েলিং ও টেকনিক্যাল ল্যান্ডিংয়ের জন্য এটিকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড