খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কর্ণাটকের সাইবার ক্রাইম শাখা (CID) সম্প্রতি একটি বৃহৎ সাইবার প্রতারণা চক্র উন্মোচন করেছে, যেখানে প্রায় ৪০,০০০ মিউল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই অভিযানকে রাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন প্রতারণা রোধ কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যা ডিজিটাল জালিয়াতি ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
৬ ফেব্রুয়ারি, CID-এর একাধিক দল রাজ্যের ১০০টিরও বেশি স্থানে সমন্বিত রেইড পরিচালনা করে। এই অভিযানে চক্রের ১৩ প্রধান সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত। তদন্তে দেখা গেছে, এই গ্যাং প্রায় ৪০,০০০ মিউল অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালনা করছিল, যা অনলাইন প্রতারণা সহজ করার জন্য ব্যবহার করা হত।
মিউল অ্যাকাউন্ট হলো সাধারণ মানুষের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, যা অপরাধীরা নিয়ন্ত্রণ করে। CID সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা নগদ অর্থের প্রলোভন দিয়ে অনেককে তাদের ATM কার্ড, ব্যাংক পাসবুক ও অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রদান করেছিল। এরপর এই অ্যাকাউন্টগুলো সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তর করা হত, যারা বিভিন্ন অনলাইন স্ক্যাম, ইনভেস্টমেন্ট প্রতারণা, ফিশিং হামলা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতারণা থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করত। পরে টাকা ATM থেকে তুলে নেওয়া বা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হতো, যাতে শনাক্ত করা কঠিন হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অনেক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের খবরই ছিল না যে তাদের তথ্য অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছে। সাধারণত শিক্ষার্থী, দৈনিক মজুরি শ্রমিক ও বেকার যুবকরা সহজ অর্থের লোভে ফাঁদে ফেলা হতো।
এক সিনিয়র CID কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে সাইবার প্রতারণার অভিযোগের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করার পর এই অভিযান শুরু করা হয়। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, চুরির অর্থ একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রুট করা হচ্ছে। এরপর আমরা মিউল অ্যাকাউন্ট অপারেটরদের খুঁজে বের করি।”
তথ্যভিত্তিক চিত্র:
| বিষয় | পরিমাণ / বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেফতারকৃত প্রধান সদস্য | ১৩ |
| মিউল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট | ৪০,০০০+ |
| সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট (চলমান যাচাই) | ৪২,০০০+ |
| রেইডের স্থান | ১০০+ স্থানে কর্ণাটক |
| লক্ষ্যগ্রুপ | শিক্ষার্থী, দৈনিক মজুরি শ্রমিক, বেকার যুবক |
CID ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের সহযোগিতায় এসব সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার চেষ্টা করছে। গ্রেফতারদের সঙ্গে যুক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কল রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিউল অ্যাকাউন্ট চেইন ভাঙা সাইবার প্রতারণা রোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্ট না থাকলে অপরাধীরা চুরি করা অর্থ স্থানান্তর করতে পারবে না।
CID নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং কাউকে ব্যাংক ডকুমেন্ট বা ATM কার্ড দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে। “ছোট কমিশনের জন্যও অ্যাকাউন্ট ঋণ দেওয়া বড় অপরাধের অংশ হতে পারে,” সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবছর সাইবার অপরাধ বাড়ছে, তাই এই অভিযান কর্ণাটকের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত আরও এগিয়ে চলেছে এবং প্রতারণার অর্থ উদ্ধার ও নতুন সন্দেহভাজন চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।